বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় সহকারি জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার বলেন, দক্ষতা ও মূল্যবোধ বিকাশে নিজেরাই উদাহরণ হোন। অভিভাবক হিসেবে সন্তানদের সাথে কোয়ালিটি টাইম কাটানোর বিকল্প নেই। সন্তানদের কাছে অতিরিক্ত আশা না করা, অযথা রাগ দেখানো, তাদের সামনে ঝগড়া থেকে বিরত থাকা জরুরী। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কথা ও কাজের মিল রেখে দায়িত্ব পালন, শিক্ষার্থীদের কাছে আস্থাভাজন হওয়া, ধৈর্য ও সাহসের সাথে চলা, প্রেরণা সৃষ্টির যোগ্যতা, তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা অর্জন, ত্যাগের মানসিকতা, ন্যায় ও সততা প্রতিষ্ঠা, সুবক্তা ও নথিপত্র মেইনটেইনে এগিয়ে থাকা, শিক্ষক সমাজের মর্যাদাকে বুলন্দ করবে; ইনশাআল্লাহ। তিনি শনিবার সকালে সিলেট নগরীর সিটি মডেল স্কুল নোয়াপাড়া ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কুলের সম্মানিত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক রাজন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী ইরফান জাহান জুহান এবং গীতা পাঠ করেন আনিকা চন্দ চৈতী। পুরো আয়োজনটি সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্তভাবে উপস্থাপনা করেন সহকারী শিক্ষক প্রান্ত দাশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর দায়রা জজ আদালত, সিলেটের এডিশনাল পি.পি ও সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতি এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মুকিত অপি। তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্মিলিত দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মিলে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদেরকে সন্তানের মতো আগলে রাখবেন। অভিভাবকরাও সন্তানের সামনে শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন। শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান ও পরিবার, উভয় জায়গা থেকেই শিখবে।

শিক্ষকদের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন নাজমা আক্তার আঁখি, মোঃ বোরহান উদ্দিন, লিংকন তালুকদার ও সুনীল রঞ্জন দাস। এছাড়াও সাবেক শিক্ষক ও মাউশিতে চাকুরীরত ঝলক রঞ্জন দাস তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা গান ও আবৃত্তি উপস্থাপন করে রাজমণি দে, সানজানা রায় আঁচল ও খাদিজা, যা সমাবেশে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।