বাগেরহাটের মোংলায় পশুর নদীতে ট্রলার থেকে পড়ে হোসেন মোড়ল (৪৫) নামে এক মাছ ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজের পরপরই তাকে উদ্ধারে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় ডুবুরি দলের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালিয়েও বিকেল পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হোসেন মোড়ল খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা এলাকার বাসিন্দা এবং ইউনুচ মোড়লের ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ভোরে চালনা এলাকা থেকে মাছবোঝাই একটি ট্রলারে করে মোংলা বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন হোসেন মোড়ল। তার সঙ্গে স্ত্রী ও ছয় বছর বয়সী সন্তানও ছিলেন। সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে ট্রলারটি মোংলা বাজার ঘাট এলাকায় পৌঁছে নোঙর করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় ট্রলারের পেছনের দিকে গেলে অসাবধানতাবশত পা পিছলে তিনি পশুর নদীতে পড়ে যান। নদীতে তখন জোয়ারের তীব্র স্রোত ছিল। স্বামীকে নদীতে পড়ে যেতে দেখে তার স্ত্রী চিৎকার দিলে ট্রলারের মাঝি দ্রুত পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রবল স্রোতের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই হোসেন নদীর পানিতে তলিয়ে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে মোংলা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় অভিজ্ঞ ডুবুরিরাও অভিযানে যুক্ত হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।
ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের মোট চারটি ইউনিট নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অনুসন্ধান চালালেও নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পশুর নদীর ওই অংশে পানির গভীরতা বেশি এবং স্রোত অত্যন্ত তীব্র হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। মোংলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা বলেন, সকাল থেকেই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে নদীর গভীরতা ও স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে। এরপরও নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, ঘটনার পর মোংলা বাজার ঘাট এলাকায় নিখোঁজ হোসেন মোড়লের স্ত্রী ও স্বজনদের উদ্বিগ্ন অবস্থায় দেখা গেছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।