সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতাঃ সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছে। নিহতের নাম সজিব চৌধুরী আকাশ (২৫)।
গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গুপ্তখালী গ্রামের একটি টমেটো ক্ষেত থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় রাকিব নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত সজিব মীরসরাই উপজেলার আবুতোরাব এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে সীতাকুণ্ডে নানার বাড়িতে বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত ৮টার দিকে মুরাদপুর ইউনিয়নের গুপ্তখালী গ্রামে বিএনপি নেতা আবদুল আলিম গ্রুপের সঙ্গে একই এলাকার ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হন।
সংঘর্ষের পর থেকেই শাহাবুদ্দিন গ্রুপের যুবদল কর্মী সজিব নিখোঁজ ছিলেন। পরে রাতে সজিবের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গুপ্তখালী গ্রামের একটি সবজি ক্ষেত থেকে সজিবের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মেম্বার পদে আবদুল আলিম ও শাহাবুদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা রয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ হত্যাকা- ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বলেন, নিহত সজিব তার সিএনজি অটোরিকশা গ্যারেজ দেখাশোনা করতেন। কিছুদিন আগে গ্রামে একটি সিএনজি অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনায় শালিস বসে। ওই ঘটনার সূত্র ধরে আবদুল আলিম গ্রুপের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জেরে সজিবকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া তার দলের আরও পাঁচজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই মো. বেলাল বলেন, মুরাদপুর ইউনিয়নের গুপ্তখালী গ্রামে মঙ্গলবার রাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বুধবার সকালে ওই এলাকার একটি টমেটো ক্ষেত থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।