শৈলকূপা (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার চরগোলক নগর গ্রামে ভিজিএফ কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবদলের দুই নেতার বাকবিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া তিন ঘণ্টাব্যাপী এই রণক্ষেত্রে উভয় পক্ষের অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালীন বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে চরগোলক নগর গ্রামে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সায়েম মন্ডলের কাছে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে কথা বলতে যান যুবদল নেতা শামীম। শামীম তার সমর্থকদের জন্য কিছু কার্ড দাবি করলে সায়েম মন্ডলের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। শামীমের অভিযোগ, এ সময় সায়েম মন্ডলের লোকজন তাকে মারার হুমকি দিয়ে খুঁজতে থাকে।

ঘটনা মীমাংসার জন্য দুপুরে পুলিশ এলাকায় আসে এবং সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা বৈঠক বসে। অভিযোগ রয়েছে, বৈঠক শেষে বাড়ি যাবার সময় সায়েম মন্ডলের লোকজন শামীমের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার অভিযান:

দীর্ঘ তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৬০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে গ্রামের বেশ কিছু বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হিমশিম খেলে পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

হিলি (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের হাকিমপুরে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গেল ট্যাগ অফিসার দায়িত্ব পালন না করে চেয়ারম্যান অফিসে খোশ গল্পে লিপ্ত থাকতে দেখা গেছে। এদিকে চাল ওজনে কম ও একই ব্যক্তিকে ২৯ কেজি চাল ওঠাতে দেখা গেছে। সেই চাল আবার পরিষদের বাইরে বিক্রি করা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহকালে তিন সংবাদিককে লাঞ্জিত করার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার সকাল ১০ টা থেকে হাকিমপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু হয়। ৩ নং আলীহাট ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে এমন খবর আসে সংবাদিকের কাছে। খবর পেয়ে ৭১ টেলিভিশনের সাংবাদিক সামিউল ইসলাম, সমকালের সাংবাদিক মুসা মিয়া ও দৈনিক যায়যায় দিনের সাংবাদিক রমেন বসাক দুপুর ১২ টায় ইউনিয়ন পরিষদের চাল বিতরণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে যায়। সরেজমিনে গিয়ে প্রত্যেক সুবিধা ভোগীতে অন্তত ২শ গ্রাম করে কম চাল দিতে দেখা যায়। শুধু তাই নয় ডিজিটাল ওজন স্কেলে ওপর কম পক্ষে ৫০০ গ্রাম করে চাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতেও দেখা যায়।

বিষয়টি জানতে চাইলে ওজন স্কেলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ৭ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য দিলদার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন সাংবাদিকরা দেখার কে। অকথ্য গালিগালাজ ও ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এবং জীবনে কত সাংবাদিকে খেয়েছি বলে হুমকি দেন।

একজন ব্যাক্তিকে একাধিকবার টোকেন দিয়ে চাল উঠাতে দেখা গেছে। সেই চাল ইউনিয়ন পরিষদের পাশ্বে অস্থায়ী দোকানে ১০ কেজি চাল ২৮০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। অভিযোগ আছে কিছু অসাধু ইউপি সদস্য টাকার বিনিময়ে টোকেন বিক্রি বিক্রি করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান, ৭ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য দিলদার হোসেন সহ কিছু অসাধু সদস্য মোটা অংকের টাকার বিনময়ে টোকের বিক্রি করেছেন। ওই টোকনের চাল সংগ্রহ করে অনেকে বাজারে বিক্রি করছেন। তিনি আরো বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা করা হয়নি। অনেকের নাম তালিকায় আছে কিš‘ তারা জানানো হয়নি। সেই টোকেনগুলি বিক্রি করা হয়েছে। তদন্ত করলে ব্যাপন দূর্নীতি বেরিয়ে আসবে।

জাহিদ হাসান নামের ১৪ বছরের এক কিশোরকে ১০ কেজি করে ২৮০ টাকা দরে ৪ বার চাল বিক্রি করতে দেখা যায়। ৩ বার চাল তুলে বিক্রি করেছে স্বীকার করে ওই কিশৈার কৌশলে কেটে পড়ে।

এরপর প্যানেল চেয়ারম্যনের কক্ষে গেলে ট্যাগ অফিসারকে চেয়ারম্যনের সাথে খোশ গল্প করতে দেখা যায়। বিষয়টি তাৎক্ষনিক তাঁকে অবগত করলে তিনি ওই ইউপি সদস্যকে ডেকে আপোষ করার প্রস্তাব দেন।

ওজনে কম ও কাউকে ৩ টি টোকেনের বিনিময়ে ২৯ কেজি চাল দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্যাগ অফিসার উপজেলা সহকারী যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, আমি কিছুক্ষণের জন্য চেয়ার‌্যান অফিসে বসে ছিলাম। এরমধ্যে কি করেছে আমার জানা নেই। কাউকে ১০ কেজির বেশী দেওয়া বা ওজনে কম দেওয়ার কথা নয়।

এ বিষয়ে ৩ নং আলীহাট ইউনিয়ন পরিষদ এর প্যানেল চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন জানান, ভূল করে এমন হয়েছে। ঘুষে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে নিউজটি না করার প্রস্তাব দেন।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা জানান, ভিজিএফ চাল বিতরণে কেউ দূর্ণীতি করলে তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গরিব ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের চাল বিতরণকে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় মোট ২৮ হাজার ৩৯৪ জন অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। এদিন উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একযোগে এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচির আওতায় ধামাইনগর ইউনিয়নে ২ হাজার ৫৯৬ জন, সোনাখাড়া ইউনিয়নে ২ হাজার ৩২০ জন, ধুবিল ইউনিয়নে ২ হাজার ৫৪০ জন, ঘুড়কা ইউনিয়নে ২ হাজার ২৮৯১ জন, চান্দাইকোনা ইউনিয়নে ৩ হাজার ৩৪১ জন, ধানগড়া ইউনিয়নে ২ হাজার ৩০৬ জন, নলকা ইউনিয়নে ৩ হাজার ২৪০ জন, পাঙ্গাসী ইউনিয়নে ২ হাজার ৯৯৫ জন, ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নে ৩ হাজার ৮০ জন এবং রায়গঞ্জ পৌরসভায় ৩ হাজার ৮৫টি দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

তবে চাল বিতরণকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে দামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদ ও ধানগড়া পৌরসভা এলাকা থেকে ২২ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার আরও কয়েকটি স্থানে একই ধরনের অনিয়ম ঘটছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় প্রকৃত দুস্থদের পরিবর্তে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, অসহায় মানুষের ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করে কিছু ব্যক্তি নিজেরাই বারবার চাল উত্তোলন করছেন। এতে প্রকৃত কার্ডধারীরা অনেক ক্ষেত্রে তাদের প্রাপ্য চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলা প্রশাসনের একটি অভিযানে বিষয়টি ধরা পড়ে। বিতরণের সময় ট্যাগ দেওয়ার মুহূর্তে কয়েকজনকে একই কার্ড ব্যবহার করে চাল নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। পরে সন্দেহ হলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে দামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদ ও ধানগড়া পৌরসভা এলাকা থেকে ২২ বস্তা চাল উদ্ধার করেন।

এদিকে অনেক কার্ডধারী অভিযোগ করেছেন, জনপ্রতি ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। এতে সুবিধাভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে ‘চাল নিম্নমানের’—এমন গুজবও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই গুজবকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি অসহায় মানুষের কাছ থেকে সেই চাল প্রতি কেজি প্রায় ২০ টাকা দরে কিনে নিচ্ছেন। পরে এসব চাল অন্যত্র বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।