রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের রৌমারীতে তিনদিনের কাল বৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ শিলা বৃষ্টিতে ভুট্টা সহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। গত শুক্র, শনি,ও রবিবার রাতে বয়ে যাওয়া ঝড়ে চরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী ফসলের মাঠে ভুট্টা গাছ মাটিতে পড়ে যায়। চলতি মৌসুমের শাকসবজি ও আমের গুটি ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ বছর সরকারের প্রণোদনার ভুট্টা ও পেঁয়াজের বীজ সঠিক সময়ে পেয়ে আবাদ করে কৃষক লাভবান হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়ে ছিল। ঘন ঘন ঝড় বাতাস ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। শনিবার রাতে একটানা ১২ মিনিট ব্যাপী ছোট- বড় বিভিন্ন আকৃতির শিলাপাথরের বৃষ্টি দেখে মানুষ হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। স্থবির হয়ে পড়ে মানুষের জীবন। বিভিন্ন আকৃতির শিলের আঘাতে ইছাকুড়ি, শ্রীফলগাতি বন্দবেড় গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরের টিনের চালা ফুটো হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছোটো ছোট ছেলে - মেয়েরা ঝড়ের সময় শিলের তান্ডব দেখে আতংকিত হয়ে কান্না জুড়ে দেয়।ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানান ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়ায় সেচ,কীটনাশক ও পরিচর্যা বাবদ বিভিন্ন ঋনদানকারী সংস্থা ও ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ করা কঠিন হবে।কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় এ বছর রৌমারী উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৩০৫ হেক্টর জমির ভুট্টার গাছ মাটিতে সম্পুর্ন পড়ে গিয়েছে।এ ছাড়াও বোর ধান ২ হেক্টর, গম ২০ হেক্টর,। রৌমারীতে সর্বমোট ৩৩৯ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ মো আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান অসময়ে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আংশিক ভুট্টা, সব্জি, ও আমের গুটির বেশি ক্ষতি হয়েছে।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চর লাঠিয়াল ডাংগা গ্রামের কৃষক মাজহারুল এবছর অধিক লাভের আশায় ৩ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন কিন্তু ঝড়ে তার ২ বিঘার ভুট্টা সম্পুর্ন ও আংশিক ভুট্টার গাছ মাটিতে পড়ে গিয়ে লাভের আশা ভেস্তে গেছে। একইভাবে উপজেলার শিবের ডাংগি, বকবান্দা, কলাবাড়ী, ঝাউবাড়ি, বেশ কিছু গ্রামের বাসিন্দাদের ভুট্টা সহ অন্যান ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা : চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌর এলাকাসহ গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ৯.১০ মিঃ শুরু হয়ে ঘণ্টাখানেক স্থায়ী ঝোড়ো বাতাসে বহু গাছপালা উপড়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছায়। হঠাৎ শুরু হওয়া এই ঝড়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘরের ভেতরে অবস্থান নেন।
ঝড়ের তা-বে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আম, কাঠাল ও গমের খেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে আমের মুকুল ও ছোট আম ঝরে পড়ায় আমচাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক জায়গায় গমের ক্ষেত মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
রহনপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় বড় বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে থাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘœ ঘটে। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে এবং কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে ঝড়ের সময় বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে, ফলে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি ওয়াইফাই ও ডিস লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝড়টি খুব অল্প সময় স্থায়ী হলেও এর তীব্রতা ছিল অনেক বেশি। ফলে গাছপালা ভেঙে পড়া ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে ঘটেছে। এছাড়াও শত শত পাখি মারা গেছে। যা বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও বাসিন্দাদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, আমের মৌসুমের শুরুতেই এমন ঝড়ে মুকুল ও ছোট আম ঝরে পড়ায় ফলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
হঠাৎ এই কালবৈশাখী ঝড় আবারও প্রমাণ করেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে মানুষের প্রস্তুতি ও অবকাঠামোর দুর্বলতা কতটা প্রকট। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখন দ্রুত সহায়তা ও পুনর্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় গত (রবিবার) রাত প্রায় ১০টার দিকে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। ঝড়ের তা-বে উপজেলার রাজাহার ও শাখাহার ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝড়ের সাথে ভারী বর্ষণের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে উঠতি আলুর ক্ষেতের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১০ থেকে ১২ হেক্টর জমির আলু নষ্ট হয়ে গেছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।বিষয়টি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান স্বীকার করেছেন।
এছাড়াও ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শাক-সবজির আবাদও ক্ষতির কবলে পড়েছে। এতে করে অনেক কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
অন্যদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে এলাকার কয়েকটি ইটভাটাও ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, যেসব পরিবারের বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য স্থানীয় স্কুলগুলোতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।