আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে সিলেটে এবার ৫৫টি হাট বসার প্রস্তুতি চলছে। যেখানে গতবছর জেলা ও মহানগরে ছিল ৭৪টি পশুর হাট। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এবার নগরীতে ৫টি অস্থায়ী হাটের ইজারা দিতে ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান করেছে। এছাড়া সিলেট জেলায় ৫০টি হাটের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে সিলেট সদর উপজেলায় অন্তত ৯টি হাট বসতে পারে।
জানা যায়, প্রতি বছর সরকারি অনুমোদিত হাটের নির্দিষ্ট সংখ্যা থাকলেও অননুমোদিত হাটের ছড়াছড়ি দেখা যায়। বিশেষ করে মহানগর এলাকায় যত্রতত্র হাট বসানো হয়। ঈদের একদিন বা দুদিন আগে পুরো নগরী অস্থায়ী হাটে পরিণত হয়। এ নিয়ে লেখালেখি হলেও খুব একটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। গত ঈদে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও সেই পরিস্থিতি দেখা গেছে। তবে এবার নির্ধারিত অস্থায়ী পশুর হাটের বাইরে হাট বসবেনা বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঈদুল আযহা উপলক্ষে সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভায় ৫০টি অস্থায়ী পশুর হাটের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে হাটের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। উপজেলা প্রশাসন স্ব স্ব এলাকার পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রম শেষে হাট চালু করবেন। ২০ মের পর হাটের কার্যক্রম চালু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে ঈদুল আযহা উপলক্ষে ৫টি অস্থায়ী পশুর হাটের দরপত্র আহ্বান করেছে সিসিক। সেগুলো হলো- দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন ফাঁকা মাঠ, নতুন টুকেরবাজার (তেমুখী সংলগ্ন খালি জায়গা), শহরতলীল মিরাপাড়ার আব্দুল লতিফ প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খালি মাঠ, শাহপরান বাজার সংলগ্ন খালি জায়গা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধিন তেতলী মাঠ।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮ মে থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত মোট ৯ দিনের জন্য এই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগ্রহী সবাইকে প্রতিটি হাটের জন্য অফেরৎযোগ্য ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে সিডিউল সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। গতকাল রোববার ছিল সিডিউল সংগ্রহের শেষদিন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর সিলেট নগরে সিসিকের পক্ষ থেকে ১২টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমতি দেয়া হয়। সেগুলো ছিল- দক্ষিণ সুরমা প্যারাইরচক ট্রাক টার্মিনাল, দক্ষিণ সুরমাস্থ সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন এস ফল্ট মাঠ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পার্শ্ববর্তী এলাকা, মাছিমপুর কয়েদীর মাঠ, ঝালোপাড়া, ভার্থখলা, শাহপরান গেইট এলাকা, টিলাগড় পয়েন্ট, মেজরটিলা বাজার, তেমুখী, আখালীয়া নবাবী জামে মসজিদ মাঠ সংলগ্ন এলাকা, পাঠানটুলা পয়েন্ট এলাকা ও মিরাপাড়া আব্দুল লতিফ স্কুল সংলগ্ন মাঠ। এবার সিটি কর্পোরেশন ৭টি হাট কমিয়ে দিয়েছে। কাজিরবাজার পশুর হাটের মালিকানা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের হাতে চলে আসায় এবার অস্থায়ী হাট কমিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব। তিনি জানান, কাজিরবাজার এখন সিটি কর্পোরেশনের পশুর হাট। এটি এবার সিসিক ইজারা দিয়েছে। এছাড়া জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে যত্রতত্র ও রাস্তার পাশে অস্থায়ী হাটে এবার অনুমতি দেয়া হয়নি। এবার নির্ধারিত অস্থায়ী হাটের বাইরে অন্য কোথাও হাট বসতে দেয়া হবেনা। এ ব্যাপারে সিসিকের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। গত বছর সিলেট জেলায় ৬২টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এরমধ্যে সিলেট সদর উপজেলায় বসেছিল ১০টি অস্থায়ী হাট। তবে এবার সদরে হাটের সংখ্যা কমিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ। তিনি বলেন, নগর এলাকাগুলো পড়েছে সদর উপজেলায়। নগরে ৫টি হাটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমার সদর উপজেলায়ও এবার সর্বোচ্চ ৮ টি পৃথক হাটের অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দুয়েকদিনের মধ্যে এগুলো চূড়ান্ত হবে। তবে এবার শাহী ঈদগাহ খেলার মাঠে হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হবে না। কারণ মাঠটি এখন খেলাধুলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রতিদিন সেখানে খেলাধুলা হচ্ছে। তাই এবার এই মাঠটিকে হাটের তালিকার বাইরে রাখা হচ্ছে। সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পদ্মাসন সিংহ জানান, জেলায় অস্থায়ী পশুর হাটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। উপজেলাসমূহের নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে হাটের চাহিদা জানা হয়েছে। সেগুলো যাছাইবাছাই করা হচ্ছে। দুয়েকদিনের মধ্যে হাটের সংখ্যা ও স্থান চূড়ান্ত করা হবে। তবে গত বছরের চেয়ে এবার হাটের সংখ্যা কিছুটা কমবে বলে জানান তিনি।