কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: ভাঙা গড়া চরাঞ্চলের মানুষের যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রতিবছর বানের পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চরের ভাঙ্গন শুরু হয়, নিমেষের মধ্যে জমিজমা, বাড়িঘর সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বিশাল বাগান বাড়ি মালিকের থাকে না মাথা গোঁজার ঠাঁই। প্রতিবছর যমুনা নদীর ভাঙ্গনে পাল্টে যাচ্ছে কাজীপুরের মানচিত্র। বসতভিটা গাছপালা আর শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চরাঞ্চলের মানুষের পানির আগমনের সাথে সাথেই আতঙ্কে থাকে নদী ভাঙ্গনের। কেউ জানে না আগামী বছর বসতভিটায় তারা ছেলেমেয়ে নিয়ে বাস করতে পারবে কিনা, আবার কি তারা চাষাবাদ করতে পারবে তাদের ফসলের জমিতে। এই চিন্তায় দিন কাটায় নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ প্রতিবছর কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের নদী ভাঙ্গনে শত শত বাড়িঘর বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। নদী ভাঙ্গন এত তীব্রতর হয় যে অনেকে তাদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত পায়না। অনেক কষ্টে উৎপাদিত বিভিন্ন ফসল ঘরে তুলতে পাকা আধা পাকা ফসল নিয়ে যায় সর্বনাশা নদী। শত বিঘা জমির মালিক ভাঙ্গনের করাল গ্রাস এর কবলে পড়ে হারায় জমিদারি। যাদের বাড়িতে প্রতিদিন খেটে খেয়ে যেত ৮-১০ পরিবার। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে যেসব জমির মালিক এখন দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এইসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই পরবর্তীতে পথের ভিখারী হয়ে যায়। এসব ভুক্তভোগী পরিবার অনেকেই বিগত দুই যুগ ধরে বিভিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ও সি এন্ড রি রাস্তার ধারে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের আজও পুনর্বাসনের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অন্যদিকে গত ২০ বছরে শত শত বছরের পুরনো অনেক জনপদ হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার একর ফসলি জমি নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে।
তেকানী ইউনিয়নের বুরুঙ্গী গ্রামের এক ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ওসমান গনির সাথে কথা হলে তিনি জানান তার ৪০ বিঘা আবাদযোগ্য জমি ছিল। ছেলে মেয়ে নিয়ে সুখেই দিন কাটত তার। বিগত ২০ বছর ধরে সর্বনাশা যমুনা নদীর বসতভিটাসহ সবই কেড়ে নিয়েছে। ওসমান গনির দুই মেয়ে ও এক ছেলে স্ত্রী সহ তার সংসারে ৫ জন সদস্য। বর্তমানে সে দিনমজুরের কাজ করে মানবেতর জীবন যাপন করছে। চরাঞ্চলে এরকম শত শত মানুষের চিত্র প্রায় একই। কিন্তু এসব এলাকার লোকেরা হতাশ নয়। তবুও চর এলাকার লোকেরা চর ছাড়ে না। এখনো বুক ভরা স্বপ্ন আছে এদের হৃদয়ে। এদের মধ্যে আজও অনেকে আশাবাদী একদিন গড়ে উঠবে সে চরেরগর্ভে প্রচুর পলি। আবার মনের সুখে মাঠের পর মাঠ ধান বপন করবে। ধান কেটে ভরবে তাদের গোলা। কেটে যাবে অভাব নামক অভিশাপ। সুখে-শান্তিতে ছেলেমেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকবে এই আশায় সযতেœ রেখেছে জমির দলিলপত্র।