ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর ব্যপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করা যায় আগামী দুই বছরের মধ্যে এটি চালু হবে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন, সুতরাং এটি হবে। ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি চালুর লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী, একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে সেখানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিমানবন্দর চালুর ব্যাপারে কাজের অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি চালু অত্যন্ত জরুরি। এখানে অনেকেই আছেন হয়তো তারা বিমানে উঠতে পারবেন না, কিন্তু তারপরও তারা অতি আগ্রহী। কারণ এটি চালু হওয়া আমাদের জন্য গর্বের। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে আমি চেপে ধরেই রয়েছি, তারা বলেছে আপনাদের এটা হবেই। বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও এই দুটি বিমানবন্দর ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা বিভাগের সবুজ খাতায় লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে। সাংবাদিক ভাই প্রশ্ন করছেন এটি কবে হবে? আমি বলব সময় লাগবে। সময় দিতে হবে। এটির এখন সার্ভে হবে, স্টাডি হবে, এই যে পুরাতন বিল্ডিংগুলো আছে, এগুলো ভেঙে নতুন করে করতে হবে, এয়ারপোর্টের টার্মিনাল বানাতে হবে, তবে একটু সময় লাগবে। আপনাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে।
নির্বাচনের সময় নিজের দেয়া উন্নয়ন কর্মকা-ের ওয়াদা রক্ষা করতে চান উল্লেখ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের বেশ কয়েকটি কাজ ইতোমধ্যে চালু হয়েছে, ইতোমধ্যে আমাদের জেলায় নতুন দুটি থানা ভুল্লী ও রুহিয়া উপজেলায় উন্নীত হয়েছে। বড় বড় ব্যবসায়িদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, আপনারা এখানে ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ান, কলকারখানায় বিনিয়োগ করেন। তা না হলে আমাদের জেলার মানুষের উন্নয়ন বাড়বে না। আপনাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। আপনারা জানেন কিছুদিন আগে এখানে অর্থ উপদেষ্টা এসেছিলেন। তিনি সমস্ত ব্যবসায়িদের সাথে কথা বলেছেন। এখানে আশ পাশের জেলার ব্যবসায়িগণও এসেছিলেন, তারা আরও বেশি পূজি বিনিয়োগ করতে চায়। আমি ধন্যবাদ জানাই বিমানের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে তারা ফুল টিম নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছেন। সেক্রেটারী ও সচিবগণও এসেছেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ সিভিল এভিয়েশন এর চেয়ারম্যান, মেম্বার থেকে ফুল টিম এসেছেন। তাই আপনাদের সকলকে বলি ধৈর্য্য ধরবেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিজ্ আফরোজা খানম রিতা এমপি, তার বক্তব্যে বলেন, আমরা ফুল টিম নিয়ে এসেছি। আমরা বিমানবন্দরের রানওয়েসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখলাম। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটি চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করবো। যেহেতু এটি চালু করা প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা ছিলো, তাই এটি দুই বছরের মধ্যে চালুর চেষ্টা করবো। আপনাদের এখানে এয়ারপোর্টটি চালু হলে সমগ্র ঠাকুরগাঁওবাসীর অনেক উপকার হবে। তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি চালুর ব্যাপারে কার্যক্রম চালিয়ে যাবো। তবে আপনাদেরও একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে।
এর আগে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের রানওয়েসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজ্ আফরোজা খানম রিতা এমপি, প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।
পরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের ঠাকুরগাঁও বাসীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ফুলের শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা প্রদান করেন।
জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল অমিন। অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা: মো: আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো: বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মো: পয়গাম আলী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: শরিফুল ইসলাম শরিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুল হান্নান হান্নু, দপ্তর সম্পাদক মো: মামুন অর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মাহেবুল্লাহ আবু নূর, এম, এম মজিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন তুহিন প্রমুখ।