ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেই তেল-গ্যাস নিয়ে ১০টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে। এসব জাহাজে সব মিলিয়ে প্রায় পৌনে চার লাখ টন জ্বালানি পণ্য রয়েছে বলে বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আগেই জাহাজগুলো ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। ফলে এগুলো নিরাপদে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, আগত জাহাজগুলোর মধ্যে চারটিতে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), দুটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং বাকি চারটিতে ডিজেল, ফার্নেস অয়েল ও কনডেনসেটসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্য।
এর মধ্যে কাতার থেকে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে রোববার বন্দরে পৌঁছেছে। আরও দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ওমানের সোহার বন্দর থেকে প্রায় ৪১ হাজার টন এলপিজি নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রামে এসেছে। অন্যদিকে ডিজেল, কনডেনসেট ও ফার্নেস তেলসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্য নিয়ে আরও কয়েকটি জাহাজ বন্দরের পথে রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে তেল ও এলএনজি সরবরাহে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি ব্যবহার করেই ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দীর্ঘদিন অস্থির থাকলে ভবিষ্যতে জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করেছে।