সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা: বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর বুক চিরে নিষিদ্ধ ‘ইলেক্ট্রো ফিশিং’ বা বৈদ্যুতিক শকের মাধ্যমে মৎস্য নিধনকারীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের জয় পেল প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোর থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত যমুনার বিভিন্ন পয়েন্টে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ আধুনিক মৎস্য শিকারি সরঞ্জাম ও জাটকাসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়। মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলেরা ব্যাটারি ও ইনভার্টারের মাধ্যমে নদীতে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ সৃষ্টি করে মাছ ধরছিল, যা জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। অভিযানে নদী থেকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রো ফিশিং যন্ত্র, ১৫টি শক্তিশালী ব্যাটারি এবং ৮টি বড় ইনভার্টার জব্দ করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ জাটকা ইলিশও উদ্ধার করে আভিযানিক দল। অভিযান চলাকালে নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকারের অপরাধে হাতেনাতে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া ফেরদৌস পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের হাজির করা হলে আটককৃতদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাদের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত।

জব্দকৃত জাটকাগুলো পচে নষ্ট হতে না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলার দুটি এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) গোলাম শাকিল আহমেদ জানান, ইলেকট্রো ফিশিং শুধু মাছ মারে না, এটি মাছের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয় এবং ছোট-বড় সব ধরনের জলজ প্রাণীর বিনাশ ঘটায়। জাটকা নিধন ও এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড রুখতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা নিশ্চিত করেন তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, যমুনার মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আমরা কোনো আপস করব না। ১৫টি ব্যাটারি ও ৮টি ইনভার্টার জব্দের বিষয়টি প্রমাণ করে এখানে বড় একটি চক্র সক্রিয় ছিল। আমাদের এই নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।