বগুড়া অফিস

বগুড়ায় একদিনে তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাতে জেলার গাবতলীতে নিজের ঘরে গ লা কেটে হত্যা করা হয় এক গৃহবধূকে। একই উপজেলায় বাবা তার শিশু সন্কতানকে গলা টিপে হত্যা করে। অন্যদিকে, সারিয়াকান্দিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সহপাঠীর ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছে এক স্কুলছাত্র।

জানাগেছে, সারিয়াকান্দিতে ফুটবলা খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ছুরিকাঘাতে মো.আব্দুল্লাহ সাইম মুস্তাকিম (১৭) নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। নিহত মুস্তাকিম ঘুঘুমারি উওরপাড়া গ্রামের মৃত্যু. জয়নালের ছেলে। নওখিলা পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। বৃহস্পতিবার (২১ মে) উপজেলার চন্দনবাইশা ইউনিয়নের নওখিলা পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দুপুর ১২ টায় এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারী শাহাদত (১৮) নিজাম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র। সে একই গ্রামের শাহা আলীর ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, একই উপজেলার দক্ষিণ ঘুঘুমারি গ্রামের শাহাদতের সাথে নিহত মুস্তাকিমের পুর্বের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিবাদ ছিলো। ওই বিবাদের জেরে দুপুর ১২ টায় শাহাদত ও তার বাবা শাহা আলীর সাথে কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় হামলাকারীরা মুস্তাকিমকে মারপিট ও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মুস্তাকিমকে মৃত্যু ঘোষনা করেন। বর্তমানে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নওখিলা পি এন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো.শহিদুল ইসলাম সুজন বলেন, মুস্তাকিম একজন এতিম ছেলে তার বাবা মা কেউ বেঁচে নেই। তার মৃত্যুর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ঘটনাটি বিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। সারিয়াকান্দি থানার ওসি আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান জানান, এ ঘটনার ঘটার কয়েকদিন আগে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তাদের মাঝে দ্বন্দ ছিলো বলে জানাযায়। ওই ঘটনার জের ধরেই আজকের এই হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

এদিকে, জেলার গাবতলীর মমিনহাটা গ্রামে রাতের আধারে ঘুমন্ত এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। অপরদিকে বালিয়াদিঘীর কলাকোপায় মাদকাসক্ত বাবার হাতে শিশু সন্তান খুন হয়েছে। জানা গেছে, গাবতলীর সুখানপুকুর ইউনিয়নের মমিনহাটা গ্রামে বিধান চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী রিতা রানী মজুমদার প্রতিদিনের ন্যায় গত ২০ মে রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে পাশাপাশি দুই রুমে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সোয়া ১২টায় দরজায় শব্দ পেয়ে স্ত্রী রিতা রানীর রুমে যান। সেখানে দেখতে পান স্ত্রীর গলা কাটা। বিধান চন্দ্র রায়ের আর্তচিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে রিতা রানীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। অপরদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বালিয়াদিঘীর কলাকোপা সুবোধ বাজারে রায়হান আলী (২৮) নামের মাদকাসক্ত বাবা তার ৬ মাস বয়সী শিশু সন্তান আব্দুল্লাহকে গলা টিপে হত্যা করেছে। মৃত আব্দুল্লাহর মা লিমা খাতুন বলেন, তার স্বামী রায়হান মাঝেমধ্যেই তাকে ও শিশু আব্দুল্লাহকে কারণে-অকারণে মারপিট করতো। ঘটনার পর থেকেই মাদকাসক্ত রায়হান আলী পলাতক রয়েছে। গাবতলী মডেল থানার তদন্ত ওসি আবু মুসা ও বাগবাড়ী ফাড়ীর ইনচার্জ আবুল কালাম বলেন, ময়না তদন্তের জন্য লাশ দুটি উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।