বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, দেশে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আইন, বিধিমালা, শ্রম মন্ত্রণালয়, শ্রম অধিদপ্তর ও শ্রম আদালত থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকরা এখনও তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলোÍআইন থাকার পরও তার যথাযথ প্রয়োগ ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা যায়নি। ২০২৬-২০২৯ সেশনের নবগঠিত সেক্টর দায়িত্বশীলদের প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং নৌপরিবহন ঘাট শ্রমিক ও লোড-আনলোড সেক্টরের সভাপতি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম-এর সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন রিকশা-ভ্যান সেক্টরের সভাপতি ও ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, কৃষি ও মৎস্য সেক্টরের সভাপতি গোলাম রব্বানী, পরিবহন সেক্টরের সভাপতি কবির আহমেদ, স্থলবন্দর সেক্টরের সভাপতি মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, চাতাল সেক্টরের সভাপতি ড. জিয়াউল হক, দর্জি ও তাঁত সেক্টরের সভাপতি এডভোকেট আলমগীর হোসাইন, দোকান কর্মচারী ও হকার সেক্টরের সভাপতি এস এম লুৎফুর রহমান এবং নির্মাণ সেক্টরের সভাপতি নুরুল আমিন।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রায় সাড়ে সাত কোটি শ্রমিক রয়েছে। এ বিপুল শ্রমশক্তির অধিকাংশই বিভিন্ন পেশাভিত্তিক খাতে কাজ করলেও তাদের সমস্যার কার্যকর সমাধান আজও নিশ্চিত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে দেশের শ্রমিক আন্দোলনের একটি বড় অংশ সরকারদলীয় প্রভাব ও কর্তৃত্বের মধ্যে পরিচালিত হওয়ায় প্রকৃত শ্রমিক স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকরাই নানা হয়রানির শিকার হচ্ছে এবং অধিকার চাইতে গিয়েও তারা কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ শ্রমিক এখনো কার্যকর আইনি সুরক্ষার বাইরে রয়েছে। কৃষি শ্রমিক, চাতাল শ্রমিক, বন্দর শ্রমিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতের বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের নেই কোনো নিরাপত্তা, ভাতা কিংবা আইনি সুবিধা। দেশে অসংখ্য ট্রেড ইউনিয়ন থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে প্রকৃত শ্রমিকবান্ধব ও আদর্শিক নেতৃত্বের অভাব শ্রমিক আন্দোলনকে দুর্বল করে দিয়েছে। এ সময় তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নিঃস্বার্থভাবে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং যেখানে সংগঠন শক্তিশালী হচ্ছে সেখানে সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক শ্রমিক আন্দোলন গড়ে উঠছে।

আসন্ন জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, যে দেশে কোটি কোটি শ্রমিক ন্যূনতম চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থানের সুবিধা থেকে বঞ্চিত, সেখানে শ্রমিকদের কল্যাণে বরাদ্দ অত্যন্ত অপ্রতুল। তিনি শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, চিকিৎসা ভাতা, সন্তানের শিক্ষা সহায়তা এবং বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়ে জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ১০ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণে বরাদ্দের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শ্রমিকদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে যদি শ্রমিকদের পক্ষে সংসদে কথা না বলা হয়, তবে সেটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। সবশেষে তিনি বলেন, শ্রমিকের অধিকার কেউ দেয় না- অধিকার আদায় করে নিতে হয়। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি শ্রম সেক্টরে একটি সুন্দর, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।