বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাঙামাটির কাপ্তাই ওয়াগা জোনে উদযাপিত হয়েছে ৪১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে পুরাে জোন সদরে ছিল সাজ সাজ রব বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে জোন সদরে উপস্থিত হয়ে ৪১ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ কাওসার মেহেদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অতিথিরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
আজ থেকে ৩০ বছর পূর্বে ১৯৯৬ সালের ০৮ এপ্রিল দিনাজপুর সেক্টরের অধীনে ঠাকুরগাঁও এ ৪১ রাইফেল ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এই ব্যাটালিয়ন পঞ্চগড়, রাজনগর, সাতক্ষীরা এবং সিলেট এলাকায় নিয়োজিত থেকে দক্ষতা ও নৈপূন্যের সাথে দায়িত্ব পালন করে গত ২৭ জুন ২০১৮ তারিখে বর্তমান অবস্থান কাপ্তাই এ আগমন করে। কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) তার দায়িত্বপূর্ণ প্রায় ৫৪ কিঃ মিঃ দীর্ঘ দূর্গম সীমান্তে ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক, নারী ও শিশু পাচার রোধ এবং চোরাচালান দমনসহ সীমান্তবর্তী জনগণের কল্যাণে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ‘অপারেশন উত্তরণ’ এর আওতায় এই ব্যাটালিয়ন দূর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সন্ত্রাস দমন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই ব্যাটালিয়ন অত্যন্ত গর্বের সাথে দেশের একমাত্র পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প ‘কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প’ এর নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্বও পালন করে চলেছে। দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্তে দক্ষতা, বিচক্ষণতা এবং সাহসিকতার সাথে অবৈধ কাঠ, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য আটক অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করে, যা সর্বমহলে প্রশংসা অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুপুরে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। উক্ত প্রীতিভোজে প্রধান অতিথি হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ, পিবিজিএম, পিএসসি, রিজিয়ন কমান্ডার, রিজিয়ন সদর দপ্তর, চট্টগ্রামসহ স্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, গণমাধ্যম কর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ব্যাটালিয়নের সকল পর্যায়ের সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ, পিবিজিএম, পিএসসি, রিজিয়ন কমান্ডার, রিজিয়ন সদর দপ্তর, চট্টগ্রাম কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন দীর্ঘ ৩০বছর ধরে সীমান্ত রক্ষা, চোরাচালান রোধ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন বিজিবি সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি এবং ভ্রাতৃত্ববোধ সুসংহত করতে সহায়ক হবে।