রাজশাহীতে পরিচয় সংস্কৃতি সংসদের এক আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেন, বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়ের সন্ধান দিয়ে গেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাই তাঁকে অবিরাম চর্চার মধ্যে রাখতে হবে।

গতকাল সোমবার সকালে রাজশাহী শাহ মখদুম কলেজ মিলনায়তনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তাগণ এসব কথা বলেন। তাঁরা বলেন, শুধু বাংলা সাহিত্যে নয়, বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম একটি বিস্ময়কর প্রতিভা। তাঁর মতো ক্ষণজন্মা সাহিত্যিক সাহিত্যের আকাশে বিরল। মাত্র বাইশ বছরের সাহিত্যচর্চার জীবনে এতো মানোর্ত্তীণ কবিতা, গান, ছড়া, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধসহ সাহিত্যের সকল বিভাগে বিস্ময়কর অবদান রেখে গেছেন। সমকালীন সমস্যার সমাধানে সবসময়েই তিনি পুরোপুরি প্রাসঙ্গিক।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তানের আজাদী, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লবেও তিনি ফিরে এসেছেন নতুন আঙ্গিকে। তাই নজরুল মানেই বাংলাদেশের অস্তিত্ব, বাংলাদেশের মানুষের আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান। পরিচয় সংস্কৃতি সংসদের সভাপতি কবি ও গবেষক রাবি প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ’র সভাপতিত্বে এবং কথাসাহিত্যিক মনির বেলালের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পরিচয়ের প্রধান উপদেষ্টা কথাশিল্পী ও অনুবাদক ড. নাজিব ওয়াদুদ। মূল আলোচক ছিলেন, রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক নব্বইয়ের অন্যতম কবি সায়ীদ আবুবকর।

অতিথির বক্তব্য দেন হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি ইতিহাস গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, কবি ও আইনজীবী খুরশীদ আলম বাবু, কবি ও গবেষক ড. ফজলুল হক তুহিন। আলোচনা করেন, রাবি’র ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক কামাল মাহমুদ, কবি আবদুর রাজ্জাক রিপন, কবি নজরুল ইসলাম গবেষণা কেন্দ্রের সহসভাপতি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আজহারুল ইসলাম রনি, সাধারণ সম্পাদক কবি সানারুল ইসলাম বাহার, কবি ও গবেষক ড. মঞ্জিলা শরীফ, কবি ফারহানা শরমিন জেনী, কবি শাহাদাৎ সরকার, কবি মাহাইর ইসলাম প্রমুখ। বক্তাগণ আরো বলেন, চব্বিশোত্তর নতুন বাংলাদেশকে যে অপরাজনীতি ও অপসংস্কৃতির মাধ্যমে অস্থিরতার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে তার প্রতিরোধে নজরুলের দ্রোহের কোন বিকল্প নেই। আগামী প্রজন্মকে মূল্যবোধসম্পন্ন দেশপ্রেমিক আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে নজরুল চর্চা এখন দারুণভাবে প্রাসঙ্গিক। এ জন্য শিক্ষার সর্বস্তরে নজরুল চর্চাকে আরো বাড়াতে হবে। বিশেষকরে উচ্চতর শিক্ষায় নজরুলকে আলাদাভাবেই বিশেষ গুরুত্বসহকারে পাঠকরার সুযোগ তৈরি করতে হবে। সেইসাথে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুল সাহিত্যকে পৌঁছে দেয়ার যথাযথ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।