গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো গ্রেফতার হয়নি প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা। চাঞ্চল্যকর এ পাঁচ খুনের ঘটনায় পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআইসহ একাধিক সংস্থা একযোগে অভিযান পরিচালনা করলেও পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তদন্তে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামজুড়ে এখনো বিরাজ করছে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা ও শোকের আবহ। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ফোরকানকে গ্রেফতার করে ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদঘাটন করা হোক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লা তার স্ত্রী গোপালগঞ্জের পাইককান্দি এলাকার শাহাদাৎ মোল্লার মেয়ে শারমিন খানম, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালক রসুল মোল্লাকে পরিকল্পিতভাবে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শারমিনের পিতা শাহাদাৎ মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় ৩২৮/৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ, মোবাইল ট্র্যাকিং, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ফোরকানের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ, শাহীনুর আলম জানান, ‘ফোরকান অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে বলে আমাদের ধারণা। ঘটনার পর সে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম ফেলে দিয়ে প্রযুক্তির বাইরে চলে গেছে। এজন্য তাকে শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সময় লাগছে। তবে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। আমরা আশাবাদী খুব দ্রুত তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও জানান, ‘ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুট, অভিযোগপত্র, মাদকসামগ্রী ও অন্যান্য আলামত গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের আগে ভিকটিমদের অচেতন করা হয়েছিল কিনা, সেটিও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।’

গাজীপুরের পুলিশ সুপার, মোঃ শরিফ উদ্দীন বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও স্পর্শকাতর একটি হত্যাকাণ্ড। জেলা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, সিআইডি, পিবিআইসহ বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমরা ঘটনাটির প্রতিটি দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করছি। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আরও পরিষ্কার হবে এবং তদন্তে নতুন অগ্রগতি আসবে বলে আশা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মূল আসামীকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। আমরা আশাবাদী, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

এর আগে গত শনিবার সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলার একটি ভাড়া বাসা থেকে পাঁচজনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় রহস্যঘেরা চিরকুট, কম্পিউটার টাইপ করা অভিযোগপত্র, মদের বোতল ও মাদকসেবনের বিভিন্ন আলামত।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে এখনো তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, এমন নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা কাপাসিয়ায় আগে কখনও ঘটেনি।