বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান রেলওয়ে শ্রমিকদের নবম পে স্কেল অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেছেন, দেশের রেলওয়ে খাতকে আধুনিক, জনবান্ধব ও কার্যকর করতে হলে রেল শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, জনবল সংকট ও অবহেলার কারণে রেলওয়ের শ্রমিক-কর্মচারীরা মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি গত ১৮ মে সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত রেল সেক্টরের সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
রেল সেক্টর চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি মো: মনিরুল ইসলাম মজুমদার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হামিদুল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন রেল সেক্টরের সাধারণ সম্পাদক মোঃ এমরান হোসাইন।
প্রধান অতিথি এস এম লুৎফর রহমান বলেন, অবিলম্বে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে প্রথম ধাপে শতভাগ বেসিক ও সকল ভাতা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে বর্তমান বেতন কাঠামো দি য়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের পক্ষে পরিবার পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, রেলওয়ের উন্নয়ন ছাড়া দেশের টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। দ্রুত সময়ে লোকোমোটিভ ও যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করে সংকট নিরসন করতে হবে এবং দেশের ৬৪ জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, রেল খাতকে শক্তিশালী করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে, পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
এস এম লুৎফর রহমান বলেন, রেলওয়ের অসংখ্য পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে থাকায় বিদ্যমান শ্রমিক-কর্মচারীদের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। তাই সকল শূন্য পদের বিপরীতে দ্রুত পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লীয়জ লীগের ২৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।