খুলনায় নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর জান্নাতুল মাওয়া (৪) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ২টার দিকে নগরীর হরিণটানা গেট সংলগ্ন খেজুরবাগান এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশু লবণচরা থানাধীন রায়পাড়া কালভার্ট এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজালালের মেয়ে।

শিশুটির বাবা মো. শাহজালাল জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিন বিকেলে শিশুটির মায়ের ফুফাতো ভাই, অর্থাৎ তার মামা তোতা মিয়া তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন এবং রাতে সেখানে থাকেন। পরদিন সোমবার সকালে শাহজালাল পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে শ্বশুরবাড়ি, সাচিবুনিয়া দক্ষিণ মোহাম্মদনগরে শ্যালক মো. মোশারফ সরদারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যান। দুপুরে তিনি বরযাত্রীর সঙ্গে বের হয়ে গেলে স্ত্রী, সন্তান ও তোতা মিয়া বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। দুপুর দেড়টার দিকে তোতা মিয়া শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে আইসক্রিম কিনে দেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। মেয়ে ফিরতে দেরি করায় মা আফরোজা আক্তার রুমি তোতা মিয়ার ফোনে যোগাযোগ করেন, তখন তিনি জানান মাওয়া আইসক্রিম খাচ্ছে। ওই সময় শিশুটির সঙ্গে তার মা কথা বলেন। এরপর থেকেই তোতা মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিকেলের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে রাতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। রাত ২টার দিকে তোতা মিয়া শিশুটির বাবা শাহজালালের ইমোতে তিনটি ভয়েস রেকর্ড পাঠান। এতে তিনি তিনজনের নামে মামলা করতে এবং তাদের কাছ থেকে পাওনা তিন লাখ টাকা আদায়ের কথা বলেন। পরবর্তী আরেকটি ভয়েস বার্তায় শিশুটির লাশ হরিণটানা এলাকার একটি ঝোপে ফেলে রাখা হয়েছে বলে জানান।

পরে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা হরিণটানা গেটের বিপরীত পাশে মহাসড়কের দক্ষিণে খেজুরবাগান এলাকায় ঝোপের ভেতর থেকে গলায় দড়ি বাঁধা অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করেন। প্রাথমিকভাবে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, তোতা মিয়ার গ্রামের বাড়ি বরিশালের ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার পুটিয়াখালী এলাকায়। তিনি জাহাজে চাকরি করতেন এবং বিভিন্ন কারণে অতীতে কারাভোগও করেছেন।

লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তুহিনুজ্জামান বলেন, সোমবার দুুপুরে বাবা-মায়ের সাথে ছোট মামার বিয়ের দাওয়াত খেতে সাচিবুনিয়া মোহাম্মাদপুর এলাকায় যায়। সেখানে পরিচিত এক দাদা মাওয়াকে আইসক্রীম খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নেয়। মেয়ের ফিরে আসতে দেরি দেখে মা ফোন দেয়। বিপরীত থেকে তাকে জানানো হয় মাওয়া আইসক্রীম খাচ্ছে। ওর আসতে দেরি হবে। এরপর থেকে পরিচিত ওই দাদার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আরও জানান, দুপুরের পর থেকে মাওয়াকে ফিরে পেতে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিতে থাকে। কিন্তু না পেয়ে বাবা থানায় জিডি করেন। রাত ২ টার দিকে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে হরিণটানা গেট সংলগ্ন একটি ফাঁকা স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করে। লাশের পাশে একটি দড়ি ছিল। সেটি দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ওই দাদার নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাকে গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত তোতা মিয়াকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।