চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা (ডিবি) পশ্চিম বিভাগের বিশেষ অভিযানে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ তিন মাদককারবারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বাসটিও জব্দ করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ২টা ৫৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে কর্ণফুলী থানাধীন পটিয়া ক্রসিং এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা একটি হানিফ পরিবহনের বাসে করে বিপুল পরিমাণ মাদক চট্টগ্রামের দিকে আনা হচ্ছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি চৌকস টিম অবস্থান নেয়।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন বাসটিকে থামার সংকেত দিলে চালক তা অমান্য করে দ্রুতগতিতে শহরের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। পরে ডিবি সদস্যরা ধাওয়া করে বাসটি আটক করতে সক্ষম হন। এ সময় বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে আটক করা হয়।
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, বাসে অবৈধ মাদকদ্রব্য থাকায় তারা থামার সংকেত উপেক্ষা করে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরবর্তীতে যাত্রীদের উপস্থিতিতে বাসে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের অংশে বডির নিচে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে-৮টি প্যাকেটে মোট ৮ কেজি হেরোইন, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা; ৭০টি প্যাকেটে মোট ১৪,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট (ওজন ১ কেজি ৪০০ গ্রাম), যার মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. আলী হোসাইন ওরফে আলী হোসেন (৪২), মোঃ আজিম (৪০) এবং মুহাম্মদ রাশেল (৪৯)।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা কক্সবাজার থেকে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের কাছ থেকে এসব মাদক সংগ্রহ করে বিশেষ কৌশলে বাসের বডির ভেতরে লুকিয়ে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন, যেখানে তা বিক্রির পরিকল্পনা ছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক অন্যান্য জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আলী হোসাইনের বিরুদ্ধে পূর্বেও ঢাকার হাতিরঝিল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।