সাঘাটার বোনারপাড়া চৌমাথায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. মোকলেছুর রহমান মুকুল ও তার সহযোগীদের নৃশংস ছুরিকাঘাতে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী (২৪) খুন হয়েছেন। এই হামলায় সালাউদ্দিন নামের এক শিবির কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন।
গত ২১ জুন দুপুর পৌনে ৩টার দিকে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান ও বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কাউয়ুম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সাঘাটার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি বিশেষ করে সভাপতি গঠনের বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সাথে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলের কথাকাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি মীমাংসা হলে সবাই উপজেলা চত্বর থেকে চলে যান।
এর কিছুক্ষণ পর, বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবির কর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল ও জব্বারসহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী প্রকাশে ধারালো চাকু নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা প্রথমে শিবির কর্মী সালাউদ্দিনের গলায় আঘাত করে। তাকে বাঁচাতে ইউনিয়ন শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাকে ধাওয়া করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তার ওপর ফেলে নৃশংসভাবে গলায় ছুড়ি চালায়। এরপর খুনিরা মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। এবং আশঙ্কা জনক অবস্থায় উক্ত ইউনিয়ন শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহকে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত শিবির কর্মী সালাউদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উল্লেখ্য সাইফুল্লাহ রংপুর ধাপ সাতদাগারা কামিল আলিয়া মাদরাসার অনার্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির আব্দুল করিম এমপি, জেলা নায়েবে আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ এমপি,জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান ,শিবিরের জেলা সভাপতি ইউসুফ আল কারজাভী, সেক্রেটারি ফাহিম ইসলাম, শাখাটা উপজেলা আমির মাওলানা ইব্রাহিম আলী সহ সাঘাটা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবি করেন, এই পরিকল্পিত খুনের সাথে যুবদল আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, তার ভাই পলাশ এবং বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম সরাসরি জড়িত। তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গাইবান্ধা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সাঘাটা থানার ওসি মাহাবুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা নিশ্চিত করতে ও আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তদন্ত ও অভিযান চলছে।