আসাদুল হক পলাশ, নরসিংদী : দীর্ঘ ৮ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণাধীন নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আরো ১৫০ শয্যা বর্ধিতাংশের নতুন ভবনের কাজ। এতে করে উন্নত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত নরসিংদীবাসী। কাজের দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে নতুন ভবনটি বুঝে নিতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্ধিতাংশের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন নরসিংদী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম মুসা। ভবনের রঙ করা, লিফ্ট লাগানোসহ অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে নিরপত্তার অভাবে বলে দাবি করেছেন এই প্রকৌশলী। তবে ১০ শতাংশ কাজ বাকী রেখেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ভবন বুঝে নেয়ার জন্য পত্র দিয়েছেন গণপূর্ত বিভাগ। অপর দিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বলছে, ২০২২ সালেই ভবনের কাজ সম্পন্ন করে গণপূর্ত বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নিত করার জন্য নব-নির্মিত ১২ তলা বিশিষ্ট ভবনের ৮ম তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ চলমান। হাসপাতালটির ৯ম তলায় ডায়ালাইসিস সেন্টার নির্মাণের কথা থাকলেও যেহেতু ৯ম তলা নির্মিত হয়নি তাই ৮ম তলায় ডায়ালাইসিস সেন্টর স্থাপনের জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তরের অনুমোদনক্রমে ডায়ালাইসিস সেন্টার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের কাজ সমাপ্ত হলেও হাসপাতালের লিফট স্থাপনসহ আনুসাঙ্গিক অনেক কাজ এখনো অসম্পন্ন রয়েছে।

শনিবার (৪ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আটতলা ভবনের নীচতলায় ঢুকতেই চোখে পড়ে ভবনের দু’পাশে দুটি করে চারটি লিফ্ট এর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এখনো লিফ্ট এর কাজ অসম্পন্ন। এছাড়াও ৮ম তলায় ডায়ালাইসিস সেন্টার নির্মাণ কাজ করছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। সেখানে ইটের গাথুনি, আস্তর ও টাইলস এবং দরজা লাগানো কাজ করছেন তারা।

এসময় কর্মরত নির্মাণ শ্রমিক আমিরুল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ৮ম তলায় ডায়ালাইসিস সেন্টার ইউনিটে প্রায় এক মাস যাবৎ কাজ করছেন তিনি। ইটের গাথুনি শেষ হয়েছে, আস্তরের কাজ চলমান, তারপরই টাইলস লাগানো হবে। এছাড়াও দরজার ফ্রেম লাগানো হচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই শেষ হবে দরজার কাজ। পরে রং করা হবে। আশা করা যাচ্ছে আগামী এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।

নরসিংদী গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গণপূর্ত বিভাগরে তত্ত্বাবধানে নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নিতকরণ প্রকল্পের নতুন ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন ২০১৮ সালে। ৪০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বাজাটের এই কাজটি পায় এমএন হুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১৩ তলা ফাউন্ডেশনের নির্মাণাধীন আটতলা ভবনের প্রথম তলায় থাকবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, রিসেপশন ও রান্নাঘর। দ্বিতীয় তলাজুড়ে থাকবে আউটডোরের ১৮টি কক্ষ, তৃতীয় তলায় থাকবে রেডিওডায়াগনস্টিক ও প‍্যাথলজি। চতুর্থ তলায় অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ ও সিসিইউ। পঞ্চম তলায় স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগ এবং ২৮ শয্যা মহিলা ওয়ার্ড। ষষ্ঠ তলায় প্রশাসনিক অফিস (এ‍্যাডমিন ব্লক) ও ক‍্যান্টিন। সপ্তম তলায় থাকবে ৫৮টি ওয়ার্ড। এছাড়াও অষ্টম তলায় থাকবে ডায়ালসিস সেন্টার ও আইসোলেশন ইউনিট।

অভিজ্ঞজনদের মতে, শুধু ভবন নির্মাণ হলেই হবে না, চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট জরুরী। এভবনটি চিকিৎসা সেবায় ব্যবহার উপযোগী হয়নি এখনো। নির্মাণকাজ এখনো চলছে। গণপূর্ত বিভাগ ও ঠিকাদার কেন ভবনটি বুঝে নেয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করছেন তা বোধগম্য নয়। এব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এব্যাপারে এমএন হুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ম্যানেজার কামাল উদ্দিন জানান, আমাদের যেটুকু কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল সেটুকু কাজ সম্পন্ন করে আমরা গণপূর্ত বিভাগকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন যে কাজ চলমান আছে তা আমরা করছি না। অন্য কোনো ঠিকাদার সে কাজ করছে।

নরসিংদী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম মুসা জানান, নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ এখন পর্যন্ত ৯০ ভাগ সমাপ্ত হয়েছে। ভবনের রঙ করা, লিফ্ট লাগানোসহ অল্পকিছু স্থানে প্লাস্টার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া ডায়ালসিস সেন্টার নির্মাণের কাজ অন্য একটি ঠিকাদারের মাধ্যমে করানো হচ্ছে।

নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ এন এম মিজানুর রহমান জানান, শতভাগ কাজ শেষ না করেই কেন আমাকে গণপূর্ত বিভাগ ভবন বুঝে নেয়ার জন্য চিঠি দিচ্ছে তা আমি বুঝতে পারছি না। ভবনটির শতভাগ কাজ সম্পন্ন হলে আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে তবেই আমি ভবন বুঝে নিবো। এছাড়াও ভবনটির কাজ সম্পন্নের বিষয়ে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী এখনো শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়নি। কাজ চলমান রয়েছে।