রংপুর অফিস : প্রায় দেড়শ বছরের প্রাচীন রংপুর রেলওয়ে স্টেশনে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দেড়শ বছরের প্রাচীন এই রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের উন্নয়ন কাজ হয়েছিল ১৯৪৪ সালে এরপর বাহ্যিক নামমাত্র কিছু উন্নয়ন হলেও কার্যক্রমের কোন উন্নয়ন হয়নি। উল্লেখ্য-এখানে বাহ্যিক উন্নয়নের মধ্যে প্লাটফর্ম কিছুটা সম্প্রসারণ করা হয়েছে, এর অংশ হিসেবে বসার জন্য আরসিসি চেয়ার, সিলিং ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে। কালের বিবর্তনে রংপুর নগরীর বিভাগীয় রেল স্টেশনে যাত্রীর চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এর প্রয়োজনীয় সম্প্রসারিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এর ফলে নিত্যদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। রংপুর জেলার মানুষের কাছে ট্রেনের টিকিট এখন যেন সোনার হরিণ। যাত্রী চাহিদার ১৫-২০ ভাগ টিকিটও এখানে দিতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ। অনলাইন এবং কাউন্টার উভয় মাধ্যমে ই টিকিট পেতে যুদ্ধ করতে হয় যাত্রীদের। রংপুর থেকে ঢাকা গামী একমাত্র ট্রেন রংপুর এক্সপ্রেস। এ ছাড়া এখানে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি দেয় রংপুরে। প্রতিদিন রংপুর ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ২টি মিলে গড়ে সাড়ে ৬শ যাত্রী বহন করে। এরমধ্যে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে রংপুরের জন্য আসন বরাদ্দ মাত্র ১৫৪টি এবং রংপুর এক্সপ্রেসে বরাদ্দ ১৯৯টি। দুটি ট্রেনেই টিকিট পাওয়া যেন সৌভাগ্যের ব্যাপার হয়ে উঠেছে।

যাত্রীরা বলছেন, চাহিদার ২০ ভাগ টিকিটও দিতে পারছেনা রেল কর্তৃপক্ষ। এতে করে দিন দিন বাড়ছে ভোগান্তি। সমস্যা সমাধানে ট্রেন ও বগির সংখ্যা বাড়ানোর দাবি যাত্রীদের।

রংপুর থেকে রেলপথে ঢাকায় যাবেন নগরীর লালবাগের বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া। তাই টিকিটকাটতে এসেছেন তিনি রংপুর রেলওয়ে স্টেশনে। ষাটোর্ধ্ব এই রেল যাত্রী বলেন, ট্রেনে যাতায়াত করতে ভালোলাগে তাই আমরা কষ্ট করা লাগলেও এখানে আসি আজ আমি টিকিট কাটতে স্টেশনে আসছি। কাউন্টারে এলেবলে কোনো টিকিট নাই, অনলাইনে কাটেন। অনলাইন প্রসঙ্গে এতো টানা বুঝলেও কাটতে হয়, সেখানেও আবার অনেক ভেজাল। স্থানীয় বাসিন্দা টিটু মিয়া বলেন, বিভাগীয় স্টেশন আছে। কিন্তু এখানে কোনো বিভাগীয় কার্যক্রম নেই। আরও একটি ট্রেন বাড়িয়ে ও কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরু করলে খুব ভাল হবে। নয়তো এই ভোগান্তি থেকেই যাবে।

মুনমুন রহমান নামে আরেক যাত্রী বলেন, কাউন্টারে টিকিট পেতে কষ্ট করতে হয়। অনলাইনে তো সমস্যার শেষ নেই। আমরা বারবার শুনি, রংপুর রেল স্টেশনের উন্নয়ন হবে, ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে। কিন্তু অজানা কারণে আমরা উন্নয়ন থেকে বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছি।

ট্রেনের নিয়মিত যাত্রী মোখলেছুর রহমান বলেন, অনলাইনে টিকিট কাটতে নানা ভোগান্তি। আগেই বুকিং হয়ে যায়, নয়তো সিন্ডিকেট করে কেটে রাখে। কখনো কখনো নেটওয়ার্ক সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছিনা। রংপুর বাসীর দীর্ঘ দিনের নানা দাবি থাকা সত্ত্বেও রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা অত্যন্ত হতাশাজনক।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছে বলছেন, দেশ যখন মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশ করেছে, তখন উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় শহর রংপুরের রেল সেবা সীমাহীন দুর্ভোগেরআরেক নাম হয়ে আছে। ট্রেন সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বরাবরের মতোই উদাসীন রেল কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থার অবসান দরকার।

রংপুর বিভাগ উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদের আহ্বায়ক ওয়াদুদ আলী বলেন, ১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত রংপুর রেলওয়ে স্টেশনে একবার মাত্র দায়সারা ভাবে উন্নয়ন কাজ হয়েছিল ১৯৪৪ সালে। এরপর ৮০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিভাগীয় শহর হিসেবে রংপুরের এই স্টেশনটির বাহ্যিক কিছু ছাড়া দৃশ্যমান আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগ বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয় বরাবরই উদাসীন তার পরিচয় দিয়েছে। আমরা মনে করি যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য রেলকে ঢেলে সাজানো উচিত। তিনি আরও বলেন, উত্তরের কোটি মানুষের ট্রেন যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন রংপুর। অন্য লাইনে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন স্থাপন হলেও রংপুর সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমরা আর বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকতে চাই না। দ্রুত রংপুর রেলওয়ে স্টেশনেরসংস্কার করেআধুনিকায়নকরাসহ এই স্টেশনের ওপর দিয়ে নূন্যতম আরও দুটি আন্তঃনগর ট্রেন বরাদ্দ এখন সময়ের দাবি।

রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, রেলের টিকিট এখন অন লাইনেই কেটে নিতে হবে। ঢাকাগামী ট্রেনের টিকিট ১০ দিন আগে থেকে বিক্রি শুরু হয়। যেহেতু শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে সেখানে রংপুর বাসীর জন্য আলাদা করে করার কিছু নেই। আমরা সিট সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা হয়ত ব্যবস্থা নেবে। এখানে আমাদের হাতে কিছু নেই।