তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : চলনবিলের নন্দকুজাসহ বিভিন্ন নদ নদী দখল দুষণে মৃত্যু প্রায় দেখার কেউ নেই। অপরদিকে নদী রক্ষার পরিবর্তে দখল দুষণে ও তাড়াশের হামকুড়িয়া কাটাকাল নদীর পাড় কেটে সাবার করতেছে এক প্রকার অসাধু মহল। প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে স্বারক লিপি প্রদান ও মানবনন্ধন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নাটোরের গুরুদাসপুরে চাঁচকৈড় শহরের বুকচিরে বয়ে যাওয়া নন্দকুজা নদীকে দখল-দুষণমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় পৌর সদরের চাঁচকৈড় নতুন গো-হাটা সংলগ্ন নন্দকুজা নদীতে ফেলা ময়লা আবর্জনার ওপর দাঁড়িয়ে থেকে ওই মানববন্ধন করেন পরিবেশ কর্মী ও এলাকাবাসী। নন্দকুজার করুন কাহিনী তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক আলী আক্কাছ, উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরামে আহ্বায়ক এড. রাশিদুল ইসলাম, জীবনসঙ্গী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাকিবুল ইসলাম, প্রতিভা যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি রাশিদুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, ইমাম হাসাইন পিন্টু প্রমূখ। উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরামে আহ্বায়ক এড. রাশিদুল ইসলাম বলেন- ¯্রােতস্বীনি নদী প্রবাহমান নন্দকুজার ঢেউ ছিল, ইলিশসহ প্রচুর মাছ ছিল, কুমির ছিল, ছিল জীববৈচিত্র্য।

এখন দখল-দূষণে সেই নদীকে সংকুচিত করা হয়েছে। পৌরসভার ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে নদীটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নদী রক্ষার্থে অনতিবিলম্বে সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানানো হয়। সেই সাথে নদীর প্রতি অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা।

উপজেলা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক আলী আক্কাছ বলেন, ‘গুরুদাসপুর পৌরসভায় ময়লা ফেলার ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় সমস্ত আবর্জনা নন্দকুজার বুকে ফেলা হচ্ছে। দখল ও ময়লা ফেলায় নদী ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে। পচা আবর্জনার দুর্গন্ধে নদীতে নামা যায়না। নদী পয়স্থী ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করাই দুস্কর হয়ে পড়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের জায়গা পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও পরিবেশের ছাড়পত্র পেলেই ময়লা ফেলার ডাম্পিং স্টেশন বাস্তবায়ন করা হবে। সিরাজগঞ্জ পাবনা ও নাটোরের চলনবিলের বড়াল আত্রাই ভদ্রাবতী গুমাণি কাটাখাল দেশের নদীনির্ভর; কিন্তু আজ দেশের বহু নদীই জীবনের উৎস হইতে মৃত্যুর উৎসে পরিণত হইয়াছে। নদীদূষণের কারণে দেশের অনান্যনদ নদী, মেঘনা, শীতলক্ষ্যা, আড়িয়াল খাঁ, হাঁড়িধোয়া কিংবা ব্রহ্মপুত্র- যেই সকল নদনদী একদা জীবন, বাণিজ্য ও জীবিকার প্রাণস্পন্দন ছিল, আজ তাহারাই বিষাক্ত প্রবাহে পরিণত হইয়াছে। এই নদীগুলি এখন জনজীবন ও পরিবেশের জন্য এক নীরব বিপর্যয়ের কারণ হইয়া উঠিয়াছে। বলিবার অপেক্ষা রাখে না, এই চিত্র কেবল চলনবিলের সীমাবদ্ধ নহে, ইহা সমগ্র বাংলাদেশের নদীব্যবস্থার এক উদ্বেগজনক প্রতিচ্ছবি।