মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস

রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক কমপ্লেক্স এখন আওয়ামী ফ্যাসিস্টসহ কতিপয় সমবায় কর্মকর্তার বাক্তিগত জমিদারীতে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে তৈরী হয়েছে অবাধে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য।

উল্লেখ্য, রংপুর মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র প্রেসক্লাব কমপ্লেক্স সংলগ্ন স্টেশন রোড প্রধান সড়কের পাশে গড়ে ওঠা ৬ তলা বিশিষ্ট এই রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক কমপ্লেক্স এখন নগরীর অন্যতম দৃষ্টিনন্দন বিপণিবিতান।

রংপুর জেলার ৫৫২ টি সমবায় সমিতির প্রাণের নির্যাস এবং স্বপ্নে গড়া এই রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক কমপ্লেক্স এখন নামমাত্র ৩৭টি সমবায় সমিতির নিয়ন্ত্রণে রেখে অবাধ লুটপাটের রাজত্ব তৈরি করা হয়েছে।” মিলে মিশে করি কাজ” সমবায়ের এই শ্লোগান আজ ভূলুণ্ঠিত করে সমবায় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রংপুরের শতাব্দী প্রাচীন এই গণতান্ত্রিক সমবায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে কতিপয় জেলা সমবায় কর্মকর্তা, অফিস কর্মচারী ও সমবায় ব্যাংক কর্মকর্তা কর্মচারীর পকেটে কুক্ষিগত করে ব্যক্তিগত জমিদারীতে পরিণত করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, নির্বাচনের সময় কেবল মুখচেনা অনুগত কিছু ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে ভোটার তৈরি করে ক্রমান্বয়ে সেই পরিধি ৫৫২ টি সমিতি থেকে এখন ৩৭ টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই ৩৭টি সমবায় সমিতির ব্যাপারেও রয়েছে নানান অভিযোগ। অনিয়মের প্রতিবাদী সংগঠনগুলোকে নানা কৌশলে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে অকার্যকর দেখিয়ে তাদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিষ্ট আমলে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে ওঠে। সেখানে নির্বাচনের নামে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ঐ কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী রক্ষক হয়ে ভক্ষকে পরিণত হয়েছে। ফলে সাধারণ সমবায়ীরা প্রতিবাদের সাহস হারিয়ে ফেলেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক কমপ্লেক্সের দোকানঘর বরাদ্দের সময় প্রায় প্রতিটি দোকান বরাদ্দ বাবদ সে সময়ের কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতার মাধ্যমে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা করে অদৃশ্য ভাবে অতিরিক্ত নিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এই শপিং কমপ্লেক্সের ৬ তলায় পুরো ফ্লোরটি ”ফুড জংশন” ও ”রোজা বেলা হোটেল” নামে দু’টি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রকাশ্য দরপত্র ছাড়াই গোপনে কাগজপত্র তৈরি করে ৩ কোটি টাকায় বরাদ্দ দেয়া হয়। যার মাসিক ভাড়া ধরা হয়েছে মাত্র ৪৫ হাজার টাকা। যা নীচের দোকান ঘরগুলোর তুলনায় অনেক কম। অথচ নীচের ৪ ও ৫ তলার ফ্লোর এর দুই তলা নগরীর একজন প্রভাবশালী ঠিকাদার বরাদ্দ নিয়ে মাসে এক লাখ টাকা ভাড়া দেন। জানা গেছে এই দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক একজন কাষ্টম্স কর্মকর্তার স্ত্রী। যিনি টাকার উৎসের প্রমাণ ছাড়াই এই প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ পেয়েছেন।

এসব অসঙ্গতির ব্যাপারে রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক কমপ্লেক্সের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্ন্তর্বতী চেয়ারম্যান ও জেলা সমবায় কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন সরকারের নিকট সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি রহস্যজনকভাবে নীরব ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না, কিছু বলতে পারবোনা।

এ ব্যাপারে সমবায় অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় যুগ্ম নিবন্ধক মোখলেছুর রহমানের সাথে মোবাইলে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাঁর মোবাইলের হোয়াটসা্যাপের মেসেজ পাঠিয়ে তথ্য জানতে চাইলে, রিসিভ হলেও রহস্যজনক ভাবে কোন জবাব দেননি। এসব দুর্নীতির সাথে কতিপিয় সমবায় কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী ভাড়াটিয়ারা যেমন দুর্নীতি করে লাভবান হচ্ছে অপরদিকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ সমবায়ীরা। এব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অধিকার বঞ্চিত সাধারণ সমবায়ীরা।