টানা বৃষ্টির পর হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ২৪ ঘণ্টায় সাপে কাটা ৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জনই লাউডগা বা গ্রিনভাইন সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন। অপর একজন নিজে থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে গেছেন। তিনি এখন ভালো আছেন।
রবিবার সকালে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে সাপে কাটা রোগীদের চাপ বেশি। বেশিরভাগ রোগীই উপজেলার গ্রামাঞ্চল ও ঘাস-ঝোপঝাড় এলাকা থেকে এসেছেন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, লাউডগা সাপ মানুষের জন্য ক্ষতিকর বা মারাত্মক বিষাক্ত নয়। এটি মূলত একটি মৃদু বা ক্ষীণ বিষধর সাপ। এর বিষ কেবল টিকটিকি, ছোট পাখি বা ব্যাঙের মতো ছোট শিকারকে কাবু করার জন্য কাজ করে। মানুষের শরীরে এর বিষের প্রভাব সাধারণত সামান্য চুলকানি বা ফুলে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার বলেন, "গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন সাপে কাটা রোগী এসেছে। এর মধ্যে ৭ জন লাউডগা সাপের কামড়ে আক্রান্ত। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। লাউডগার বিষ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী নয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সবাই এখন সুস্থ আছে। একজন নিজে থেকে চমেকে চলে গিয়েছিল, খবর নিয়ে জেনেছি সেও ভালো আছে।"
তিনি আরও বলেন, "হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় এনটি ভেনম মজুদ রয়েছে।" বৃষ্টির কারণে সাপগুলো ঘরবাড়ি ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছে। এসময় চলাচলে সতর্ক থাকতে হবে। সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে। ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা নিতে হবে।
বর্তমানে হাটহাজারী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন মেখল তামিনি কবিরাজ বাড়ির মৃত মনিন্দ্র লালের পুত্র মিলন দে (৬৫)। শনিবার দুপুর ২ টার দিকে খড়ের স্তূপ "কুইজ্জা" থেকে খড় নিতে গিয়ে লাউডগা সাপে কাটে তাকে। তিনি সুস্থ আছেন।
ডা. তাপস কান্তি মজুমদার নাগরিকদের রাতে ঘুমানোর সময় মশারি টাঙানো, ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং অন্ধকারে চলাচলের সময় টর্চ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।