বগুড়া জেলা যুবদলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক ও তার বাহিনীর মারপিটে গুরুতর আহত ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা মতিন সরকারের শ্যালক আলাল শেখ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানাগেছে।
গত ২৮ মার্চ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার জেলা শহরের ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আলাল শেখকে (৪৬) ভোটের দিন বাজার থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, জেলা যুবদলের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আলাল শেখকে ফতেহ আলী বাজার থেকে তুলে নিয়ে মালগ্রাম ডাবতলা এলাকায় একটি বাগানের মধ্যে বেঁধে রেখে পিটিয়ে দুই পা ও একটি হাত ভেঙে দেওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বেলা ৩টার দিকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। আলাল শেখ শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার মেরু শেখের ছেলে।
এ ছাড়া তিনি বগুড়া শহর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কারাবন্দী মতিন শেখের শ্যালক বলে জানা গেছে। আলাল শেখের নামে হত্যা, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গত দেড় বছরের মধ্যে আলাল শেখকে পুলিশ তিনবার গ্রেফতার করেছিল। সম্প্রতি তিনি জামিনে ছিলেন বলে জানিয়েছেন বগুড়ার ডিবি পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার।
ডিবি ওসি জানান, খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল খোঁজ করতে থাকে। পরে ডিবি পুলিশ জানতে পারে আলাল শেখ নামের ওই ব্যক্তিকে মালগ্রাম ডাবতলা এলাকায় একটি বাগানের মধ্যে বেঁধে রেখে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন জড়িত। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ চারজনকে আটক করে। ডিবির ওসি আরও জানান, শফিকুল ইসলামের বাড়ি চকসূত্রাপুরে হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি মালগ্রামে বসবাস করছেন। শফিকুলের সঙ্গে আলাল শেখ ও তার ভগ্নিপতি মতিন শেখের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এই বিরোধের জের ধরে আলাল শেখকে তুলে নেয়ার ঘটনা ঘটে।
এদিকে যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আলাল শেখ শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসায়ী। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তাদের অত্যাচারে অসংখ্য মানুষ বাড়িঘর ছাড়া। তার সঙ্গে অনেকের শত্রুতা রয়েছে। শত্রুতার জের ধরেই কে বা কারা আলাল শেখকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে, ঘটনার পরের দিন আলাল শেখ এর পিতা সিদ্দিকুর রহমান মেরু বাদী হয়ে যুবদল নেতা শফিককে প্রধান আসামী করে ২৮ জনের নামস উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জনের নামে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।