মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : নাগরিক সুবিধা বাড়ানো আর জলাবদ্ধতা নিরসন করার লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৩৬ কোটি টাকার ড্রেন ও সড়ক নির্মাণ প্রকল্প এখন যেন মরণ ফাঁদ। কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি কারণে সেই উন্নয়ন প্রকল্পই এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা খোঁড়া ড্রেন, ভাঙা সড়ক আর কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই চলমান নির্মাণ কাজের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা।

সম্প্রতি অরক্ষিত নির্মাণাধীন ড্রেনে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে ইফাদ নামের ছয় বছরের এক শিশু। এই মৃত্যুর পর প্রকল্পটিকে এখন স্থানীয়রা ‘মৃত্যুফাঁদ’ হিসেবে দেখছে। নিহত শিশু ইফাদের মামা স্বাধীন হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সময়ে কাজ শেষ হলে কিংবা ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এই অকাল মৃত্যু হতো না। এই মৃত্যুর দায় ঠিকাদার ও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ধাপে ধাপে এসব ড্রেন ও সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প চলমান থাকলেও অধিকাংশ কাজই নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। তন্মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আইনজীবী কাজলের বাড়ি থেকে মাথাভাঙা মন্দির এবং হারুন মিয়ার বাড়ি থেকে গড়াই নদী পর্যন্ত ১ হাজার ৬৭ মিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ পায় ঢাকার মেসার্স নূর কনস্ট্রাকশন। প্রায় ৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি গত ২৫ মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার চুক্তি থাকলেও এখন পর্যন্ত এর কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪ শতাংশ। অন্যদিকে ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দুটি ড্রেন এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় দেড় কোটি টাকার সড়ক নির্মাণকাজ এখনো শুরু করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। পাশাপাশি এম এন স্কুল থেকে পাবলিক লাইব্রেরি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কাজ ৬০ শতাংশে এসেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, জনবহুল রাস্তার পাশে বড় বড় গর্ত খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও বিপজ্জনকভাবে রড বের হয়ে আছে, আবার কোথাও জমে আছে নোংরা পানি। এত বড় ঝুঁকিপূর্ণ কাজের চারপাশে কোনো সুরক্ষা বেষ্টনী বা সতর্কতামূলক চিহ্ন নেই। এদিকে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করার অভিযোগও উঠে বিভিন্ন সচেতন মহরের পক্ষ থেকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনের নামে যত্রতত্র রাস্তা কেটে রাখায় প্রতিনিয়ত যানবাহন উল্টে মানুষ আহত হচ্ছে। ভেকু দিয়ে নালা কাটার কারণে ভেঙে পড়ছে অনেকের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। প্রতিবাদ করলে উল্টো ঠিকাদারের লোকজনের ধমক শুনতে হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এক বাসিন্দা ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছে।