শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদ্দাতাঃ মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মাত্র ৭২ মিটারের একটি সেতুর কাজ দীর্ঘ ছয় বছরেও শেষ হয়নি। অথচ দরপত্র অনুযায়ী এটি ১৭ মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। একটি সেতুর অভাবে শিবালয়, দৌলতপুর ও ঘিওর উপজেলার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

জানা যায়, শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের জাফরগঞ্জের রৌহা সড়কের ঘোষবাড়ীর খালে ৭২ মিটার সেতুর নির্মাণকাজ ২০২০ সালের ১৫ মার্চ শুরু হয়। ফরিদপুরের ঠিকাদার মেসার্স শাহানা এন্টারপ্রাইজ জান্নাত কনস্ট্রাকশন কাজটি পায়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এ কাজের চুক্তিমূল্য ছিল পাঁচ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। নির্মাণকাজ ২০২১ সালের ১৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত দীর্ঘ ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুটি হয়নি। এত দিনে চার ভাগের দুই ভাগ কাজ হয়েছে। সেতু নির্মাণের পর রয়েছে সংযোগ সড়কের কাজ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেতুর কাজ শুরু করার পর দুবার নকশা পরিবর্তন করে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দুই দফায় সময় বাড়িয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বারবার সময় বাড়িয়ে নিলেও কাজের অগ্রগতি হচ্ছে না। এর আগেও তিনি লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে কাজ ফেলে চলে গিয়েছিলেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহানা এন্টারপ্রাইজ জান্নাত কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার মীর ছালাম জানান, দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করে দেওয়া হবে। আগে সেতুর কাজ ছিল ৬০ ফুট। পরে আরও ১২ ফুট বাড়িয়ে ৭২ ফুট করা হয়েছে। এ কারণে সময় বেশি লাগছে। মানুষের চলাচলের জন্য নির্মাণাধীন সেতুর পাশ দিয়ে ডাইভারশন করে দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করে দিতে বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে গিয়েছিলেন। তাঁকে ফোন করে কাজে ডেকে আনা হয়েছে। কয়েকবার সতর্কীকরণ নোটিশও দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী বলেন, সেতুটির কাজ দ্রুত করার জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।