মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান, মোংলা : মোংলায় নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারে সরকার ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় পর্যায়ক্রমে দখল ও নাব্যতা সংকটে থাকা খালগুলো পুনঃখনন করা হবে। প্রাথমিকভাবে একটি বেসরকারি সংস্থা সিএনএস এবং নবল প্রকল্পের সহায়তায় চারটি খালের প্রায় ১৩ কিলোমিটার অংশে খননকাজ শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ের প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের মতে, মংলা উপজেলা ও সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের শতাধিক খাল দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট, অবৈধ দখল কিংবা প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে কার্যকারিতা হারিয়েছে। কোথাও চিংড়ি চাষের জন্য খালের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে এবং খালনির্ভর মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বর্তমানে মাদুরপাল্টা, পালের খ-, বেনুরখ- ও ভোলা নদীর নির্দিষ্ট অংশে খননকাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ হাজার একর জমি ধান ও সবজি চাষের আওতায় আসবে এবং প্রায় ২ হাজার পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার একর জমিতে উন্নত চাষাবাদের সুযোগ তৈরি হবে।
কৃষকদের দাবি, মিষ্টি পানির প্রবাহ নিশ্চিত হলে লবণাক্ততার প্রভাব কমবে এবং ফসল ও মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। পরিবেশ সংশ্লিষ্টদের মতে, খাল পুনরুদ্ধার হলে এলাকার বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য পুনরায় সক্রিয় হবে।
মংলা ও পার্শ্ববর্তী রামপাল উপজেলায় বহু সরকারি খাল দীর্ঘদিন ধরে দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী জানান, রেকর্ডভুক্ত খালগুলোর তথ্য সংগ্রহ করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে উদ্ধার ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য উপকূলীয় খাল ও নদীগুলোকে পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
তবে পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় কার্যকর বাস্তবায়ন ও তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন কঠিন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বোনারপাড়ায় এগ্রো ফার্ম মালিকের কাছে চাঁদা দাবি বিএনপির ৩ নেতা আটক
গাইবান্ধা সংবাদদাতা : সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় তৈলিয়ান মোল্লা এগ্রো ফার্মের মালিকের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে বিএনপির তিন নেতা কে আটক করেছে পুলিশে ।
জানা গেছে, অভিযুক্তরা ফার্ম মালিকের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ক্ষতি করার হুমকি দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী তাদের আটক করে বোনারপাড়া পুলিশ ইনচার্জকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেয়।
আটকের পর অভিযুক্তরা নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন- ১. সম্রাট মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক, বোনারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি। ২. হাসান কবির, সদস্য সচিব, বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদল। ৩. সৃজন আহমেদ শিপন, সাবেক আহ্বায়ক, বোনারপাড়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল।
এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের কে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত দের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।