ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা: ছাতক পৌরসভায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শহরের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, অপর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার অধিকাংশ ড্রেন সরু ও অপরিকল্পিত হওয়ায় দ্রুত ময়লা জমে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অনেক এলাকায় বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে থাকা ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ছে, যা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। মোট ২৮ জন কর্মী দিয়ে পুরো শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা হচ্ছে, যার মধ্যে রাস্তা পরিষ্কার, ড্রেন পরিষ্কার ও বর্জ্য অপসারণের কাজ অন্তর্ভুক্ত। পৌর এলাকায় ময়লা অপসারণের জন্য কিছু যানবাহন থাকলেও তার সবগুলো সচল নয়। ফলে প্রতিদিন জমে থাকা বিপুল পরিমাণ আবর্জনা যথাসময়ে অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা ডাস্টবিনগুলোতেও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ময়লা জমে উপচে পড়ছে। পরে এসব বর্জ্য শহরের বাইরে নির্ধারিত স্থানে ফেলা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের প্রধান ড্রেনগুলোর অনেক জায়গা ময়লা জমে বন্ধ হয়ে আছে। কিছু এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় ড্রেনের পানি উপচে রাস্তায় উঠছে। বাসিন্দাদের মতে, ড্রেন পরিষ্কার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। ৬নং ওয়ার্ডের বাগবাড়ি এলাকায় রাস্তার পাশের অনেক ডাষ্টবিনে উপছে ময়লা, অনেক ময়লা ড্রেনেও ফেলা হচ্ছে। একই অবস্থা ৭নং ওয়ার্ডের সুজন মিয়া রোর্ডের শাহজালাল আবাসিক এলাকায়। এসময় কথা হয় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সর্দার ইয়ামিন আহমদের সাথে। তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি ড্রেন নিয়মিত পরিস্কার করেও কোন কুল-কিনারা পাচ্ছি না। ড্রেন পরিস্কার করতে গিয়ে উঠে আসছে অসংখ্য পলিথিন ও প্লাষ্টিকের বোতল। এ গুলো দ্রুতই ড্রেন ব্লক হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক ড্রেনের মধ্যে গ্যাস লাইনের পাইপ থাকায় পরিস্কার করতে কষ্ট হচ্ছে। অনেকেই ময়লা-আবর্জনা ড্রেনে ফেলে দিচ্ছেন। শহরকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরী। ৬নং ওয়ার্ডের বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ মিয়া বলেন, বাসার সামনে ড্রেনের ময়লা উপছে পড়ছে। মাঝে-মধ্যে ড্রেন পরিস্কার করলেও এক সপ্তাহের মধ্যেই ড্রেন ভরে ময়লা পানি রাস্তায় গড়িয়ে পড়ছে। পানি নিস্কাসন না হওয়ায় ড্রেনে জ্যাম লেগে যাচ্ছে। যে কারনে চারদিকে দূর্গন্ধের পাশাপাশি বেড়েছে মশার উপদ্রব। দিনের বেলায়ও মশার কয়েল জালিয়ে রাখতে হচ্ছে।

পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো.আক্তার হোসেন তালুকদার বলেন, একঘন্টার বৃষ্টিতে রাস্তায় দেড় থেকে দুই ফুট পানি জমছে, ড্রেনের ময়লা- আবর্জনা মাড়িয়ে গত ১০ বছর ধরে দূর্ভোগ নিয়েই আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতিদিন নোংরা পানির উপর দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করছে। এসব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও হবে হচ্ছে এমন আশাই দিন যাচ্ছে।