বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৫৫তম বার্ষিকীতে ঢাকায় অবস্থিত বিদেশী মিশনগুলো আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পৃথক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, ভারত, জাপান, ফ্রান্স, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশন বাংলাদেশের জনগণের প্রতি এই শুভেচ্ছা বার্তা পাঠায়। এছাড়াও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং শুভেচ্ছা জানান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: মহান স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান মার্কো রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমি বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানাই।’ তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ তার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে, এই প্রেক্ষাপটে এবারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হচ্ছে।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের জনগণের কল্যাণে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আমরা আগ্রহী।’ বিবৃতিতে মার্কো রুবিও বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটি উদযাপন করছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।’
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন তার বার্তায় বলেন, “স্বাধীনতা বার্ষিকীতে বাংলাদেশের সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন। মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।”
ভারত: ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় সংক্ষেপে জানানো হয়, “বাংলাদেশকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।”
ফ্রান্স: ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকী উদযাপনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজও প্রত্যক্ষ করেন। রাষ্ট্রদূত জানান, এই উপস্থিতি দিনের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যকার দৃঢ় সম্পর্কেরই প্রতিফলন।
জাপান: জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “৫৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমি বাংলাদেশের জনগণকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে চাই। এই উপলক্ষে আমরা আমাদের কৌশলগত অংশীদারত্বকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের দৃঢ় বন্ধন উদযাপন করি।”
কানাডা: কানাডিয়ান হাইকমিশন তাদের বার্তায় বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলে, “একটি শক্তিশালী এবং স্থায়ী অংশীদারত্বের ভিত্তি স্থাপন করে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে কানাডা গর্বিত। আমরা আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উদযাপন করি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমৃদ্ধ ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য ভাগ করা অগ্রাধিকারগুলোকে অগ্রসর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
সুইজারল্যান্ড: সুইজারল্যান্ড দূতাবাস বাংলাদেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে জানায়, বিশেষ এই দিনে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রগতির জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে সুইজারল্যান্ড বিশেষ মূল্য দেয়। বার্তায় আরও বলা হয়, “একসঙ্গে আমরা আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান আরও জোরদার করার অপেক্ষায় আছি।”
ইন্দোনেশিয়া: ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস তাদের বার্তায় মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেছে, “এই দিনে আসুন আমরা সেই সব মুক্তিযোদ্ধাদের অটল সাহস ও আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাই, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক দিনটি যেন জাতির জন্য ঐক্য, সহনশীলতা এবং সমৃদ্ধির অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে।”
নেপাল: নেপাল দূতাবাস তাদের বার্তায় জানায়, “আমরা বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।”
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর শুভেচ্ছা: স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বার্তায় দিবসটি উপলক্ষ্যে এ শুভেচ্ছা জানান তিনি। মোহাম্মদ মুইজ্জু বলেন, কোনো সন্দেহ নেই যে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি গুরত্বপূর্ণ, যা স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যতের আশাকে গভীরভাবে আলোকপাত করে। সমস্ত বাংলাদেশিদের জন্য তাদের দেশের ক্রমাগত উন্নতির প্রচেষ্টার প্রেরণার উৎস হবে। তিনি বলেন, মালদ্বীপ বাংলাদেশকে বিশ্বস্ত প্রতিবেশী ও উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করে। আমাদের মানুষে মানুষে আদান-প্রদান দুই দেশের অংশীদারিত্বকে দীর্ঘকাল ধরে সংজ্ঞায়িত করেছে এবং আমাদের পারস্পরিক অগ্রগতিতে অবদান রেখেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের সহযোগিতাকে শক্তিশালী করার জন্য যে ইতিবাচক কাজ করছি তার জন্য আমি আনন্দিত।
স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানালো পাকিস্তান: স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে পাকিস্তান। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তায় এ অভিনন্দ জানিয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে পাকিস্তানের সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে তাদের উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভকামনা জানায়। পাকিস্তান বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে এবং দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
স্বাধীনতা দিবসে চীনের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন: স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে তারা এই অভিনন্দন বার্তা পাঠান।
চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং অভিনন্দন বার্তায় বলেন, চীন ও বাংলাদেশ ভালো প্রতিবেশী, ভালো বন্ধু এবং ভালো অংশীদার। দুই দেশ সর্বদা একে অপরের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার সঙ্গে আচরণ করেছে, পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা করেছে এবং রাষ্ট্র-রাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মডেল স্থাপন করেছে। শি জানান, তিনি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা গভীর করতে, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিতে এবং চীন-বাংলাদেশ ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের ধারাবাহিক উন্নয়নে কাজ করতে প্রস্তুত।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। এছাড়া, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।