দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুনীল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সমুদ্রবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা, বাণিজ্যিক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সংস্থাটি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কোস্ট গার্ড দেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় এলাকা এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে সমুদ্রবন্দরসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সচল রাখতে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করছে। এসব বন্দরকে কেন্দ্র করেই দেশের শিল্পকারখানা, জ্বালানি সরবরাহ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। নিরাপদ ও কার্যকর বন্দর ব্যবস্থাপনা দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, বহিঃনোঙর ও সমুদ্রপথে নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে চোরাচালান, ছিঁচকে চুরি ও জাহাজে অবৈধ কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। গত দেড় বছরে ১ হাজার ৩২০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সময়ে ৪৭টি বাণিজ্যিক জাহাজে বোর্ডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করে জলদস্যুতা ও ক্ষুদ্র চুরি প্রতিরোধ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট জাহাজে ফেরত দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কোস্ট গার্ডের এই কার্যকর ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ২৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ সংস্থাটিকে “লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন” প্রদান করেছে, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে কোস্ট গার্ডের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

বন্দর কার্যক্রমে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে ক্যাপ্টেন মিজানুর রহমান বলেন, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে ৪ হাজার ২৭৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিং ১৩৮ দশমিক ১৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে পৌঁছেছে, যা ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। এ সময় বন্দরের মাধ্যমে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে, যা একটি নতুন রেকর্ড। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা রিক্যাপ ও আইএমও এর মূল্যায়নেও চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা রেটিং উন্নত হয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে ১৩টি জলদস্যুতা ও ক্ষুদ্র চুরির ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে মাত্র ৪টিতে নেমে এসেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।