রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা : রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের টুং শিয়ালা গ্রামের মৃত সাদেক আলী আকন্দের ছেলে শহীদুল ইসলাম (৪৫)। শহীদুল ইসলামের ছেলের শ্বশুরবাড়ি রাজশাহীর বানিশ্বর এলাকায়, যা পান চাষের জন্য বিখ্যাত এলাকা। সেখান থেকেই মূলত তিনি পান চাষে উদ্বুদ্ধ হন। নিজের ৭ শতাংশ পরিত্যক্ত উঁচু ভিটায় পানের বরজ তৈরি করেন তিনি। এতে তাঁর সর্বসাকুল্যে ব্যয় হয় প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।

বর্তমানে শহীদুলের বরজে পানের ব্যাপক ফলন হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতি ১৫ দিন অন্তর বরজ থেকে ৭ থেকে ৮ পোয়া পান উত্তোলন করা হচ্ছে, যা বাজারে গড়ে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শহীদুল ইসলাম বলেন, আমার বরজের পান অত্যন্ত সুস্বাদু। বাজারে এর আলাদা কদর রয়েছে এবং দিন দিন এই পানের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রানীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুন বলেন, রাণীনগর উপজেলায় পানের বরজ আছে কি না, তা আমার জানা ছলি না। এমনকি মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। আমি নিজে বরজটি পরর্দিশনে যাবো এবং ওই কৃষককে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা ও পরার্মশ প্রদান করবো।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু এই উপজেলায় কোনো পান গবেষণা কেন্দ্র নেই, তাই কৃষকরা সাধারণত সরাসরি পরামর্শ পান না। কিন্তু শহীদুল ইসলামের মতো পরিশ্রমী উদ্যোগ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

শহীদুল ইসলাম বলেন, আমার এই পানের বরজ তৈরি করে প্রায় এক বছর হয়ে গেলো এখন পর্যন্ত কোনো কৃষি কর্মকর্তা আসেনি বা কোনো দিক নির্দেশনাও দেয়নি, তিনি আরও বলেন কৃষি বিভাগ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা ও সরকারি সহায়তা পাওয়া গেলে এই বরজকে আগামীতে আরও বড় পরসিরে সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

শহীদুলের সাফল্য দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক এখন পান চাষে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। স্থানীয়রা মনে করছেন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই অঞ্চলে পান চাষকে বাণিজ্যিক রূপ দেয়া সম্ভব, যা গ্রামীণ অঞ্চলে বড় অবোকাঠামোগত ভূমিকা রাখবে।