১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) দীর্ঘদিন ধরে বন ব্যবস্থাপনা ও বনজ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে বিরল ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ২০২৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শুরু হওয়া “সম্পূর্ণ আগর গাছে আগর সঞ্চয়ন” বিষয়ক একটি প্রকল্পের আওতায় জীবপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ এলাকায় নির্মাণকাজ শুরুর সময় প্রকল্প পরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন একাধিক বিরল প্রজাতির গাছ কাটার উদ্যোগ নেন। এতে গবেষণার জন্য সংরক্ষিত রক্তন, বাঁশ পাতা, বক্স বাদাম, ঢাকিজাম এবং মালয়েশিয়া রাবার ক্লোনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ অপসারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া বিএফআরআই ক্যাম্পাস তথা পুরো চট্টগ্রামের সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত বিরল প্রজাতির ‘বৈইলাম’ গাছ কাটার কাজও শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাছটি ফেলার উদ্দেশ্যে এর চারপাশে মূল কেটে বড় বড় গর্ত করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক এস্কেবেটর নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে বৈইলাম গাছটিকে বিরল প্রজাতির বৃক্ষ হিসেবে গেজেট প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে এটিকে স্মারক বৃক্ষ হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়াও শুরু করেছিল বিএফআরআই কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে গাছ কাটার উদ্যোগ পরিবেশবাদী মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এদিকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকের ব্যক্তিগত পরিচয় থাকায় অভিযোগগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, বিএফআরআই ক্যাম্পাস ও কৈউসিয়া বন গবেষণা কেন্দ্রে প্রায় দুই হাজার আগরগাছ কাটা হয়েছে, যা গবেষণা ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পরিবেশবিদরা বলছেন, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বিরল প্রজাতির গাছ নিধনের অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।