কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ায় হাড় ভাঙা শিশুর চিকিৎসা করাতে এসে ফিরে গেলেন লাশ হয়ে। কুষ্টিয়া শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের পর তাসনিয়া আফরিন (৬) নামের ওই শিশুর আর জ্ঞান ফিরেনি। অবশেষে মারা গেছেন তিনি। সোমবার রাত ৮টার দিকে শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত একতা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। তাসনিয়া আফরিন কুমারখালী উপজেলার সানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে।

জানা গেছে, চার-পাঁচ দিন আগে বাড়ির সিঁড়ি থেকে পড়ে তাসনিয়ার বাঁ হাত ভেঙে যায়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার বিকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে কুষ্টিয়া শহরের একতা ক্লিনিকে নিয়ে যান। সে সময় চিকিৎসকরা তাকে অপারেশন করার কথা জানান।

সেখানে হাতের অস্ত্রোপচারের জন্য সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাসনিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সে সময় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাদী এবং অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের জন্য তাহেরুল আল আমীন উপস্থিত ছিলেন।

অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাসনিয়ার মৃত্যু হয়। এ খবর অপারেশন থিয়েটারের বাইরে থাকা স্বজনদের কাছে পৌঁছালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। এ সময় স্থানীয় লোকজনও ভাঙচুরে অংশ নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ১১টা পর্যন্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা সেখানে অবস্থান করেন। পরে অবরুদ্ধ দুই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।