চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডবলমুরিং মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া নগদ ৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা এবং ২ হাজার মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডবলমুরিং মডেল থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আগ্রাবাদ এলাকার বিএম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত নবাব অ্যান্ড কোম্পানি (শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর) ও এনসি শিপিং (শিপিং এজেন্ট)-এর অফিসে চুরি সংঘটিত হয়।

ঘটনার বিবরণে বলা হয়, ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে অফিস খুলে কর্মচারীরা দেখতে পান অফিসের কাগজপত্র ছড়ানো-ছিটানো, আসবাবপত্র এলোমেলো এবং জানালার গ্রিল কাটা। পরে বিভিন্ন কক্ষের ফাইল ক্যাবিনেট ও ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। এতে নগদ প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৩টি এফডিআর সনদ (মোট মূল্য ৭৫ লাখ টাকা) এবং সিসিটিভির ডিভিআর চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

মামলা রুজুর পর ডবলমুরিং থানার অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন খানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোবিনুল ইসলামের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে মো. শাওন (২৩) নামে এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মো. হৃদয় (সাগর) (২০) ও মো. রাসেল ওরফে চেগা রাসেল (২৩)-কে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, চক্রের মূলহোতা মনির হোসেনের নেতৃত্বে তারা পরিকল্পিতভাবে অফিসে চুরি করে। ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে তারা ভবনের পেছন দিক দিয়ে উঠে জানালার গ্রিল কেটে অফিসে প্রবেশ করে চুরি সংঘটিত করে।

চুরি শেষে তারা কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত কক্ষে গিয়ে লুট করা টাকা ও ডলার ভাগ-বণ্টন করে নেয়। প্রত্যেককে প্রায় ৭ লাখ টাকা ও ৩ হাজার ডলার করে দেয়া হয় বলে জানায় তারা। এছাড়া চক্রের আশ্রয়দাতা ইমাম হোসেনকেও একটি অংশ দেয়া হয়।