গত সোমবার রাতে নগরীর টাইগার পাস এলাকায় ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে শহীদদের স্মৃতি ও জুলাই আন্দোলনের চেতনাবাহী গ্রাফিতি মুছে দিয়ে জুলাইকে ভালোবাসা মানুষদের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। শহীদ আবু সাঈদদের স্মারক গ্রাফিতি মুছে ফেলা মানে জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাসকে আঘাত করা, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যেখানে নারীসহ আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হেনস্তার মতো আচরণ করতে হবে। যারা জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে এবং শহীদদের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করছেন, তাদের প্রতি অযাচিত আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই যোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। এজন্য আমরা তাদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই এবং আশা করি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর কখনো সৃষ্টি হবে না। জনগণের আবেগ, ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতীক নিয়ে কোনো ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে বর্তমানে যে মেয়র দায়িত্বে রয়েছেন, তার বৈধতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে অগণতান্ত্রিক উপায়ে একটি চেয়ার দখল করে রাখার বাস্তবতা জনগণ প্রত্যক্ষ করছে। আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আমরা অতীতে তাকে সহযোগিতা করেছি এবং বিশেষ করে জলাবদ্ধতার মতো গুরুত্বপূর্ণ নগর সমস্যায় একসাথে কাজ করেছি। কিন্তু পূর্ববর্তী মেয়াদের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও নির্বাচনের উদ্যোগ না নেওয়ায় নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাই, পরিস্থিতিকে জটিল না করে দায়িত্বশীল আচরণ করুন এবং নগরবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করুন। একইসঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই, যারা নগরীতে পুনরায় গ্রাফিতি অঙ্কনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে এগিয়ে এসেছেন।