নালিতাবাড়ি (শেরপুর) সংবাদদাতা : শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার জনবহুল ও আয়তনে বড় ইউনিয়নের নাম মরিচপুরান। ইউনিয়নটি উপজেলার পূর্ব দক্ষিণে অবস্থিত। যার দুদিকে ঘিরে আছে বৃহত্তর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও দক্ষিণে নকলা উপজেলা। তিনটি মৌজার দশটি গ্রামে প্রায় ১৬,৫০৩ জন মানুষের বসবাস এই ইউনিয়নে। ভৌগোলিক দিক থেকে কোন্নগর মৌজার ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কোন্নগর গ্রামটি সমস্যা সংকুল। শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষের সাথে নিজ এলাকার অভ্যন্তরে ২টি নদী প্রবাহিত হওয়ার দরুন একটি মাত্র সরু রাস্তা পায়ে হেঁটে নালিতাবাড়ি শহরে যেতে হয়। গ্রামটির উত্তর-পূর্ব পাশে ভারতের নখরে গিরিশিখব ক্লিক পাহাড় থেকে নেমে আসা দুরন্ত ভোগাই নদী ও পশ্চিম দক্ষিণ পাশ দিয়ে ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা মালিঝি নদী এ দুটি নদীর তিনটি মোহনা বোয়াল হাওরে ব্রিজ না থাকায় চলাচল বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে গ্রামবাসীকে।
বিশেষ করে কোন্নগর গোয়াল ঘোপের শিক্ষার্থীরা পাশের ফকিরপাড়া এবং দক্ষিন কোন্নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফকিরপাড়া উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, মরিচপুরান পলিট্রেকনিক্যাল বিএম কলেজ, হাফিজিয়া মাদরাসা, পোষ্ট অফিস, ভূমি অফিস, বিশাল দুটি কবরস্থান ও নালিতাবাড়ি শহরে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় কলেজে লেখাপড়া করে। গয়লার হাওর ঘোপ থেকে ভোগাই নদী পার হয়ে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে কফির পাড়া বাজার সিএনজি স্টেশন। কিন্তু নিকটবর্তী দুটি উপজেলার এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত দুরন্ত ভোগাই নদী এবং মেঘালয় থেকে নেমে আসা মালিঝি নদী নৌকা পারাপার হতে হয়। নালিতাবাড়ি শহরে যেতে ০৪ কিলোমিটার বেহাল রাস্তার কারণে জনদুর্ভোগের শেষ নেই। কাঁচা সরু রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে চলাচল অযোগ্য হওয়ায় অন্য এলাকার আত্মীয় স্বজন এই গ্রামে আসে না। রোগী নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব হয় না। বাড়িতে ঠিকমতো পৌঁছানো যায় না মাঠের উৎপাদিত ফসল। দক্ষিণ কোন্নগরের মোঃ ইসরাফিল বলেন, এ এলাকা শুধু চলাচলের সমস্যার চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে রাস্তা ও ব্রীজের ব্যবস্থা না থাকার কারণে গ্রামের তরুণ-তরুণীদের বিয়েও ভেঙ্গে যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার স্থানীয় দুগাংগা পাড় বাজার থেকে দক্ষিণ কোন্নগর গোয়াল হাওর ভোগাই নদীর মোহনা পর্যন্ত গ্রামটির অবস্থান। দক্ষিণ কোন্নগর খাল পাড়া এলাকার মোঃ ফখরুল ইসলাম বলেন, এখানকার অধিকাংশ মানুষ নিরক্ষর বা স্বশিক্ষিত হওয়ায় সামাজিক সচেতনতা গড়ে উঠেনি। এ গ্রামে যারা উচ্চশিক্ষিত তারা অনেকে উপজেলা ও জেলা শহরে বসবাস করে। গ্রামটি স্বাধীনতার পর থেকে অবহেলিত। এখান থেকে অনেক জটিল অসুস্থ রোগী উপজেলা হাসপাতালে যাওয়ার পথে মারা গেছে একমাত্র রাস্তা ও ব্রিজ না থাকার কারণে।