গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বাগচালায় গরু চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি গরু চুরির মামলা এবং অপরটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রযুক্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিভিন্ন থানার সহায়তা নেওয়া হয়।

নিহতরা হলেন, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার বদনী ভাংগা এলাকার সরাফত আলীর ছেলে আজাহারুল ইসলাম (৩৬), সিলেট জেলার কোতোয়ালি থানার ঘাশিটোলা (মোস্তাক মিয়ার কলোনী) এলাকার কমলা কান্তের ছেলে কৃষ্ণ (৪৬) এবং পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার কলাগাছিয়া এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে সেলিম (৩৮)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র পিকআপ নিয়ে কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বাগচালা এলাকায় খামারি আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে গরু চুরি করতে যায়। বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়দের ডাক দিলে এলাকাবাসী চোরচক্রকে ধাওয়া করে। এ সময় তালা কাটার সরঞ্জাম, চাপাতি ও দাসহ তিনজনকে আটক করা হয়। পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তারা গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় অপর দুজনও মারা যান। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা চোরচক্রের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় খামারি আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে নিহত তিনজনসহ আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে কালিয়াকৈর থানায় গরু চুরির মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে ফুলবাড়ীয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০০ থেকে ২৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম জানান, 'ঘটনার পরপরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। দুটি মামলার তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া চোরচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।'

তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে আজাহারুল ইসলাম ও সেলিমের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে কৃষ্ণের লাশ নিতে এখনো কোনো স্বজন হাসপাতালে আসেননি। পুলিশ তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজে কাজ করছে। তিনি আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে যেকোনো অপরাধের তথ্য পুলিশকে জানানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।