আসাদুল হক পলাশ, নরসিংদী থেকে : মালদ্বীপের দিঘুরা আইল্যান্ডে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৫ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম (৪২)। নিহত শফিকুল ইসলাম মৃত শরাফত আলীর ছেলে। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে এ প্রতিবেদকের নিকট মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের মেয়ে রিয়া মণি। তারই ছেলে মালদ্বীপ প্রবাসী রিফাত মিয়াও টেলিফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম ১৫ বছর যাবত মালদ্বীপে কর্মী হিসেবে চাকরীরত ছিলেন। পরিবারে তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় ১০ বছর আগে তার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ১৫ বছর আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমান তিনি এরপর সবশেষ গত ৫ মাস আগে দেশে ছুটি কাটিয়ে আবারও মালদ্বীপে ফিরেন। সেখানে একটি রিসোর্টে কাজ করতেন তিনি। ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দুরে নিহতের ছেলে রিফাত কাজ করেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত রিফাত সেখানে গিয়ে বাবার মরদেহ দেখতে পেয়ে বাড়িতে মৃত্যুর কথা জানান।

নিহতের মেয়ে রিয়া মনি বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আমার বাবা মারা গেছে। ভোরে সেহরি রান্না করার সময় আমার ভাই রিফাত আমাকে ফোন দিয়ে কান্না করতে করতে বলে 'আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে, আমরা এতিম হয়ে গেছি, বাবা আর বেঁচে নেই, আগুনে পুড়ে মারা গেছে।' তিনি আরও জানান, বাবার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুয়েকদিনের মধ্যেই বাড়িতে মরদেহ নিয়ে আসা হবে।

নিহতের ছেলে রিফাত জানান, আমার বাবা রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরণে পুড়ে নিহত হয়েছে। রান্না ঘরটিতে গ্যাস সিলিন্ডার সহ বিভিন্ন কেমিক্যালের দাহ্য পদার্থ ছিল সেগুলো বিস্ফোরিত হয়েছে। বের হওয়ার জন্য শুধু একটি দরজা ছিলো, ধোয়ার কারনে কেও বের হতে পারেনি। এরপর সবাইকে মৃত অবস্থায় বের করে আনা হয়। পরে বাড়িতে ফোনে বাবার মৃত্যুর খবর জানাই। বাড়িতে আমার বোন এবং স্ত্রী ছাড়া আর কেও নাই। মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে দূতাবাসে কথা হয়েছে।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো মাসুদ রানা জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কেউ যোগাযোগ করেনি।

এর আগে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে মালদ্বীপের দিগুড়া আইল্যান্ডে একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পের গেস্টহাউজে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর গেস্টহাউজের ভেতর থেকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় সাত বাংলাদেশি শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- মো. সদর আলী, মো. রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন ইসলাম এবং মো. নুর নবী সরকার। এছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুই বাংলাদেশি শ্রমিক- জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন।