আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিংয়ে কাঁচা ও পঁচা কলা সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বদেশ পল্লীর বিরুদ্ধে। ৩১ মার্চ সকাল ১০ টায় উপজেলার পূর্ব বৈরাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কমপক্ষে ১৫ টি বিদ্যালয়ে এই খাওয়ার অযোগ্য কলা সরবরাহ করা হয় বলে জানা গেছে। এর আগে ২৯ মার্চ স্কুল ফিডিং কার্যক্রম উদ্বোধনের দিন ৪০-৪৫ টি বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ সরবরাহই করা হয়নি। উপজেলার ১১০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং সরবরাহের দায়িত্ব পান প্রত্যাশী এনজিওর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান স্বদেশ পল্লী। উদ্বোধনের দিন থেকেই উপজেলার ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২ হাজার ৪৫ জন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং সরবরাহে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অদক্ষ ও অপ্রতুল জনবল, যানবাহনের ঘাটতি ও খাদ্য সংগ্রহ ও সরবরাহে চরম স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে চরম অব্যবস্থাপনার দায়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যাদেশ বাতিলেরও দাবী উঠেছে সর্বমহল থেকে।
গত ২৯ তারিখ সকালে আনোয়ারার ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা সদরের আনোয়ারা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বদেশপল্লী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. হিন্দুল বারী। উদ্বোধনের দিন সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণের কথা থাকলেও বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত বিদ্যালয়ে খাবার পৌঁছেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক বিদ্যালয়ে ছুটির ঠিক আগ মুহূর্তে খাবার নিয়ে গেলে শিক্ষকরা বিপাকে পড়েন। কারণ তার আগে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর ছুটি হয়ে যায়। আবার সরবরাহকৃত এসব খাবারের নির্দিষ্ট মেয়াদ ও পুষ্টিগুণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে সারাদিন অপেক্ষা করেও শিক্ষার্থীরা খাবার না পাওয়ায় এলাকার অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের শেষ ছিল না। এদিকে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম উদ্বোধনের দ্বিতীয় দিনও অনেক বিদ্যালয়ে ফিডিং দেওয়া হয়নি। ৩১ মার্চ সকালে পূর্ব বৈরাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর গুয়াপঞ্চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শোলকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১০ থেকে ১৫ টি বিদ্যালয়ে কাঁচা ও পঁচা কলা সরবরাহ করতে দেখা গেছে। পূর্ব বৈরাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫৭১ জন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও ) তাহমিনা আকতার বলেন, স্কুল ফিডিং সরবরাহে অনিয়মের বিষয়ে আমরা দ্বিতীয় দিন ঠিকাদারের প্রতিনিধির সাথে বসেছিলাম। তারা প্রথমদিন হিসেবে একটু সমস্যার কথা বলেছিল। কিন্তু আজকেও শুনলাম বিভিন্ন স্কুলে খাওয়ার অযোগ্য ফিডিং সরবরাহ করেছে। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।