সাইফুল ইসলাম ঝিনাইদহ সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের লক্ষণদিয়া গ্রাম প্রকৃতির সবুজে ঘেরা এক শান্ত জনপদ। তবে এই গ্রামের একজন মানুষের স্বপ্ন ছিল একটু ভিন্ন। তিনি চেয়েছিলেন, সবুজের মাঝেই ফুটে উঠুক কৃষ্ণচূড়ার আগুনরাঙা লাল, আর পুরো গ্রামটি পরিচিত হোক “কৃষ্ণচূড়া গ্রাম” হিসেবে। এই স্বপ্নের কারিগর আমিনুল ইসলাম। ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি তার ছিল গভীর ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা থেকেই নিজের অর্থ, সময় ও শ্রম দিয়ে বছরের পর বছর ধরে গ্রামের রাস্তার ধারে, খোলা জায়গায় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে লাগাতে থাকেন কৃষ্ণচূড়ার চারা। লক্ষ্য ছিল একটাই লক্ষণদিয়াকে একদিন লাল ফুলে ভরা নান্দনিক গ্রামে রূপ দেওয়া।
স্বপ্ন পূরণের পথে তিনি প্রায় এক হাজার কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ করেন এবং যত্নও নিতে থাকেন নিয়মিত। কিন্তু কিছুদিন পরই শুরু হয় দুর্বৃত্তদের নিষ্ঠুরতা। গাছের গোড়ায় দেওয়া হয় বিষাক্ত কেমিকেল, ভেঙে ফেলা হয় ডালপালা, অবহেলায় নষ্ট করা হয় চারাগুলো। ফলে হাজারো গাছের মধ্যে বর্তমানে টিকে আছে মাত্র প্রায় ৫০টি। তবুও গ্রীষ্ম এলেই সেই অল্প কয়েকটি গাছ লাল ফুলে সেজে ওঠে। আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়া ফুলে মোড়ানো পথ মুগ্ধ করে পথচারী ও দর্শনার্থীদের। আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন এই সৌন্দর্য দেখতে। অনেকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এই গ্রামের অনন্য দৃশ্য।
স্থানীয়রা জানান, শুরুতে অনেকেই গাছ লাগানোর কাজে সহযোগিতা করলেও পরে সেই আগ্রহ আর টিকে থাকেনি। বরং কিছু মানুষের অবহেলা ও ইচ্ছাকৃত ক্ষতির কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে এই উদ্যোগের বড় একটি অংশ। ক্ষোভ প্রকাশ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, নিজের টাকায়, অনেক কষ্ট করে গাছগুলো লাগিয়েছিলাম। যত্ন করেছি, কিন্তু কিছু মানুষ গাছের গোড়ায় বিষ দিয়ে একে একে মেরে ফেলেছে। এটা শুধু গাছ ধ্বংস নয়, একটি স্বপ্ন ধ্বংস। গাছগুলো বেঁচে থাকলে আজ আমাদের গ্রাম ‘কৃষ্ণচূড়া গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত হতো। পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি সুজন বিপ্লব বলেন,
একজন মানুষের একক উদ্যোগে এমন একটি পরিবেশবান্ধব প্রকল্প গড়ে উঠেছিল, যা সংরক্ষণ করা গেলে এটি একটি মডেল গ্রাম হতে পারত। এটি শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, গ্রামীণ পর্যটনেরও সম্ভাবনা তৈরি করত।
তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই যদি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা গুরুত্ব দিতেন, তাহলে এত গাছ নষ্ট হতো না। এখনো যে গাছগুলো রয়েছে, সেগুলো রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।