চট্টগ্রাম ব্যুরো

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রগুলোয় নেমেছে দর্শনার্থীদের ঢল। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরতে বের হওয়া মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে নগরের পর্যটনস্পটগুলো।

বিশেষ করে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, সি ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্ক এবং আগ্রাবাদের ওয়ান্ডার ল্যান্ড শিশু পার্ক-এ ঈদের দিন থেকে শুরু করে টানা কয়েকদিন উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এর পাশাপাশি নেভাল বিচ, পারকি সমুদ্র সৈকত, বাটালি হিল, ডিসি হিল, জাম্বুরি পার্ক এবং বাটারফ্লাই পার্ক বাংলাদেশসহ নগরীর বিভিন্ন স্পটেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।

সকাল থেকেই পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে মানুষের ঢল নামে। নগরীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা সাগরের ঢেউ উপভোগ করতে ভিড় করেন। শিশুদের বালুর মাঠে খেলা, তরুণদের সেলফি তোলা এবং পরিবারগুলোর আনন্দঘন সময় কাটানোয় পুরো সৈকত এলাকা যেন এক উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। বিকেলের দিকে ভিড় আরও বেড়ে যায়, তখন হাঁটার মতো জায়গাও সংকুচিত হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়ও ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বাঘ, সিংহ, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী দেখার জন্য দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ঈদের আনন্দকে ঘিরে পরিবারগুলোর মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, পাঁচ দিনে প্রায় ৭০ হাজার দর্শনার্থী আশা করছি। প্রথম তিনদিনে প্রায় ৫০ হাজারের মতো দর্শনার্থী প্রবেশ করেছেন। যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় পাঁচগুনের বেশি। শুক্র ও শনিবারও দর্শনার্থীদের এই রকম চাপ থাকবে।

নগরের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কেও ছিল ভিড়ের চাপ। রাইডগুলোতে উঠতে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। পাশের সি ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্কেও একই চিত্র দেখা যায়। তীব্র গরমে পানির খেলায় মেতে ওঠে তরুণ-তরুণী ও শিশুরা। কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (বিপণন) বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ঈদের দিন থেকেই ফয়’স লেক কমপ্লেক্স আনন্দে মুখরিত। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে নিরাপত্তার সাথে ঈদের ছুটি কাটানোর জন্য আদর্শ স্থান হিসেবে ফয়’স লেক কমপ্লেক্স সকলের প্রত্যাশা পূরণ করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

এছাড়া আগ্রাবাদের ওয়ান্ডার ল্যান্ড শিশু পার্কেও পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা মানুষের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য। ছোট ছোট রাইড, খেলার সরঞ্জাম এবং খোলা পরিবেশে শিশুরা আনন্দঘন সময় কাটায়। ওয়ান্ডার ল্যান্ড শিশু পার্ক-এর জিএম বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন বলেন, পার্কে প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম হচ্ছে। সেখানে ২৪টি রাইড আছে। এছাড়া সেখানে চালু আছে স্নোপল শো, রোবট শো ও ডাইনোসর শো। এসব রাইড ও শো থেকে দর্শনার্থীরা প্রচুর আনন্দ উপভোগ করছে।

তাছাড়া নেভাল বিচ ও পারকি সমুদ্র সৈকতেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রকৃতির নীরবতা আর সমুদ্রের স্নিগ্ধ পরিবেশ উপভোগ করতে অনেকে এসব তুলনামূলক কম ভিড়ের স্থান বেছে নেন। অন্যদিকে বাটালি হিল ও ডিসি হিলে উঠেও অনেকে শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন।

জাম্বুরি পার্ক ও বাটারফ্লাই পার্ক বাংলাদেশেও শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা মানুষের ভিড়ে এসব পার্ক প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে।

দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে ঈদের ছুটি তাদের জন্য পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি বড় সুযোগ। তাই এই সময়টাতে তারা শহরের কাছাকাছি বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেই বেশি ভিড় করছেন।

তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কোথাও কোথাও যানজট ও কিছুটা ভোগান্তির অভিযোগও করেছেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে পতেঙ্গা সৈকত, ফয়’স লেক এবং আগ্রাবাদ এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। তবুও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটি ঘিরে এমন দর্শনার্থীর চাপ চট্টগ্রামের পর্যটন খাতের জন্য ইতিবাচক। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন চাঙা হয়, তেমনি শহরের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ে। যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এই পর্যটন সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।