কারিমুল হাসান, ধুনট, সংবাদদাতা
অতি ঘ্রাণযুক্ত একটি ফুলের নাম মহুয়া। সাধারণ মানুষের মাঝে মহুয়ার খুব একটা পরিচিতি না থাকলেও, অনেকে যে চেনেনা তাও নয়। আশ্চার্যের বিষয় হলো ঘ্রাণের কারণে জিজ্ঞাসিত হয়ে মহুয়া নিজেই তার পরিচয় বহন করে। অন্যান্য ফুলের ঘ্রাণে অনেকে সহজেই নাম বুঝতে পারে। কিন্তু মহুয়া এমন একটি ফুল, যার ঘ্রাণ একবার কারো নাকে গেলে সে অবশ্যই অন্যকে জিজ্ঞাসা করে এটা কিসের ঘ্রাণ?
মহুয়া সচরাচর খুব একটা দেখা না গেলেও। ধুনটে দেখা মিলেছে প্রাকৃতিক শর্করা ও নানা পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ এই মহুয়া ফুল। এ ফুলকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলে (যেখানে ফুল আছে) আলোচনায় রয়েছে মহুয়া। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এই ফুল শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্বের কারণেও স্থানীয় মানুষের কাছে বিশেষ মূল্যবান। যা অনেকের অজানা। প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানোর স্বভাব থাকলেও, অনেকে সখের বসে মহুয়া গাছ রোপন করে থাকে।
বসন্তের শুরুতেই মহুয়া গাছে ফুল ফোটার সুচনা হয়। ফুল ফোটার পর দিনের চেয়ে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত বাদুর (পাখি বিশেষ) ফুল গুলো খেয়ে থাকে। ফলে মহুয়া ফুল খুব কম মানুষেরই চোখেই পড়ে। এই ফুল শুকিয়ে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। এটি দিয়ে গ্রামীণ পর্যায়ে খাবার, পিঠা তৈরিতে সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ এলাকায় মহুয়া ফুল দিয়ে পনীয় তৈরির বিষয়টিও অনেকের অজানা নয়। মূলত ঘ্রাণের জন্য মহুয়া বেশি পরিচিত। পলাও, রোষ্টসহ বিশেষ তৈরিকৃত খাবারে রন্ধনশৈলী হিসেবে এই ফুলের ব্যবহার ঘটায়।