গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় চাঁদার দাবিতে নির্মাণ ঠিকাদার ও কৃষকদল নেতা মো. ওয়াশিমের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। হামলায় তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে এবং অপর পা গুরুতরভাবে ভেঙে যাওয়ায় তিনি স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বের শঙ্কায় রয়েছেন। এ ঘটনায় গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এস. এম. মোমিনুর রহমান মমিনকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নামে মামলা দায়ের হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ওয়াশিম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নির্মাণ ঠিকাদারি কাজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করে আসছিলেন। এতে একটি প্রভাবশালী চক্র তার কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদল নেতা মমিনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে হামলা চালানো হয়।

হামলায় ওয়াশিম গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। অপর পা ভেঙে যাওয়ায় প্লাস্টার করা হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের কারণে তিনি প্রায় অচল হয়ে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার গাজীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার স্ত্রী মোসা. মুন্নী আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামী এখন একেবারেই অসহায়। এক পা নেই, অন্য পাটাও ভেঙে গেছে। আমরা জানি না সামনে কী আছে। আমরা শুধু নিরাপত্তা আর ন্যায়বিচার চাই।’ এ সময় প্রেসক্লাবের সামনে একটি গাড়িতে গুরুতর আহত ওয়াশিমকে শোয়ানো অবস্থায় রাখা হলে উপস্থিতদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

ওয়াশিমের মা রহিমা খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক। তাকে পরিকল্পিতভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। আমরা সর্বস্ব হারিয়ে এখন অন্যের বাসায় থাকি। আমি সরকারের কাছে আমার ছেলের হামলার বিচার চাই।’

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর একাধিকবার থানায় মামলা করতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতে আবেদন করলে আদালত গাছা থানাকে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং আসামিরা মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা এস. এম. মোমিনুর রহমান মমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ওয়াশিম মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে।’