'মাদকের ভয়াবহতা এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে-মাদককে না বলুন, পরিবারকে বাঁচান'-এই বার্তা সামনে রেখে গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতা জোরদারে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততায় এক বিশাল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পুলিশ সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি মাদক নির্মূলে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার তুলে ধরেছে।
শনিবার দুপুরে খাইলকুর বাদশাহ্ মিয়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় এণ্ড কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটি গাছা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা 'মাদক ছাড়ো, পরিবার বাঁচাও', 'মাদক ছাড়ো, জীবন গড়ো', 'মাদকমুক্ত সমাজ চাই, নিরাপদ বাংলাদেশ চাই'-এমন বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন, যা পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
র্যালিতে অংশ নেন বাদশাহ্ মিয়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় এণ্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ দেবনাথ, বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান, জাহাঙ্গীর হাজারী, ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিমসহ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। কর্মসূচিতে গাছা থানার পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ মাদকবিরোধী এই উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
র্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, 'মাদক এখন আমাদের সমাজের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, একটি সমাজ এমনকি একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।'
এ সময় বক্তারা বলেন, 'মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মহানগরের গাছা থানা এলাকাকে আমরা মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই-এটাই আমাদের অঙ্গীকার।'
অধ্যক্ষ, প্রদীপ দেবনাথ বলেন, 'মাদক নির্মূল করা গেলে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ অধিকাংশ অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এখনই সচেতন হতে হবে এবং পরিবার থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।'
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে মাদকবিরোধী একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে, যা তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।