বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে গাজীপুরের তিন আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, গাজীপুর মহানগরের গাজীপুর সদর মেট্রো থানার সামান্তপুর এলাকার মোঃ আফাজ উদ্দিন সরকারের ছেলে রায়হান উদ্দিন সরকার (২৮), গাছা থানার কাথোরা এলাকার মোঃ ইউনুছ আলীর ছেলে আশরাফুল আলম (২৮) এবং পূবাইল থানার হায়দারাবাদ এলাকার ইউনুছ আলীর ছেলে শাকিল আহম্মেদ (২৭)। তারা সবাই ইয়ুথ লিডারশিপ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থী ও নিজ নিজ এলাকার টিডিপি দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তারা প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার ইস্যু সামনে এনে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। সেখানে ভাতা বৃদ্ধি, রেশন সুবিধা, চাকরি স্থায়ীকরণ, নিয়োগে অগ্রাধিকারসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি ও অজ্ঞাত নম্বর ব্যবহার করে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানোর বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ১৭ মে সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা প্রায় ১৭৭ জন সদস্যের মধ্যেও এই চক্র সক্রিয় ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে পরিচালনার চেষ্টা হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মামলার বাদী মামলার বাদী পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার কদমতলা গ্রামের কোভিদ আলম পাটোয়ারীর ছেলে আনসার একাডেমীর সার্কেল এডজুটেন্ট (প্রশাসন), কালিয়াকৈর আনসার একাডেমী, সফিপুরের মাসুদ হাসান (৩৩) বলেন, 'জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।'

কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম জানান, 'গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।ঘটনাটির পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।'

গাজীপুর জেলা আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর আব্দুল মান্নান জানান, আসামিদের শুক্রবার বিশেষ আদালতে হাজির করা হয়। তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে আনসার ও ভিডিপির অভ্যন্তরে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে বাহিনী কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।