জামালপুর সংবাদদাতা : জামালপুরে পাম্পে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও চাহিদা মতো ডিজেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। সময় মতো সেচ দিতে না পারায় বোরো ধানের ক্ষেত শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র গরমের মধ্যেই কৃষকরা ডিজেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ঘন্টার পরে ঘন্টা অপেক্ষার পরেও অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অল্প তেল নিয়ে ফিরছেন । ফলে ক্ষেত ঠিক মতো সেচ দিতে না পারায় ফসল নিয়ে ক্ষতির আশংকায় কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্য মাত্রা ধরা হলেও চাষ হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৩২ হেক্টর জমিতে। জেলার সাতটি উপজেলার মোট ৫৩ হাজার ৩৬৮ টি সেচ পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে ২৮ হাজার ১০৩ টি ডিজেল চালিত, যা দিয়ে ৫০ হাজার ৪০৬ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হয়।
জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপর পরিচালক মোহাম্মদ শরিফ আলম খান বলেন, কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো কৃষকের সমস্যা হলে কৃষি অফিসে জানালে তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
সখিপুর (টাঙ্গাইল)
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিনের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৈশাখের তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং। দিনরাত সমানতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে স্থবির হয়ে পড়েছে জীবনযাত্রা। দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টাই থাকছে না বিদ্যুৎ। এতে এলাকার কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্র, সাংবাদিকতা সবখানেই তীব্র লোডশেডিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গরম যত বাড়ছে, লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি তত বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। উপজেলার শহরাঞ্চল যেমন তেমন থাকলেও গ্রামগুলোর অবস্থা আরও ভয়াবহ। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ যে কখন আসে, সেটাই তো বলতে পারবো না। তাহলে বুঝেন গ্রামের মানুষের কতটা খারাপ অবস্থা।
হাসপাতাল এমনকি ক্লিনিকগুলোতেও লোডশেডিংএ রোগীদের অবস্থা ভয়াবহ। সখিপুর উপজেলা রোডের আল ইহসান ক্লিনিকের ৩য় তলায় ভর্তি বুলবুলি আক্তার বলেন, হাসপাতালে বিদ্যুৎ থাকে না বলে ক্লিনিকে ভর্তি হলাম, এখানেও বিদ্যুৎ সমস্যা। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন জ্বালানি সংকটের কারণে জেনারেটর চালাতে পারছি না।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে চাহিদার তুলনায় অনেক কম মেগাওয়াট পাওয়ায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। তবে কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে, তাও বলতে পারছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর আটবার লোডশেডিং হয়েছে। সর্বশেষ বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে বিদ্যুৎ চলে যায়, আসে সন্ধ্যে ৬টা ৩০ মিনিটে। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৫ বার লোডশেডিং হয়েছে।
এসএসসি পরীক্ষার সময় দিন-রাত মিলে ১৫-১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। পরীক্ষা চলাকালেও এক-দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং হয়ে থাকে। তীব্র গরমে পরীক্ষার হলে বসে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ে। সখিপুর উপজেলার পৌর এলাকায় একে তো প্রচ- গরম, তার ওপর ১৫-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং। এ কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালোভাবে নিতে পারছেন না পরীক্ষার্থীরা। রাতে-দিনে কোনো সময়ই পড়া শোনা করা যাচ্ছে না। জরুরি এর সমাধান দরকার বলে জানান পরীক্ষার্থীরা।
সখিপুর উপজেলার বেতুয়া গ্রামের গৃহিণী লতিফা আক্তার বলেন, সারাদিনে কতবার বিদ্যুৎ যায়, তার হিসাব নেই। একবার বিদ্যুৎ গেলে কয়েক ঘণ্টা পরে আসে। তীব্র গরমে আর লোডশেডিংয়ের কারণে ছোট ছোট বাচ্চারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। ঠিকমতো পড়াশোনাও হচ্ছে না। সংসারের কাজও ঠিকমতো করা যাচ্ছে না।