সাভার সংবাদদাতা
আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হতে পুরোপুরি প্রস্তুত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। জাতির গৌরব আর অহংকারের এ-দিনটিতে সৌধ প্রাঙ্গণে নামবে লাখো মানুষের ঢল। তাদের হৃদয় নিঙড়ানো শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে উঠবে স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদী।
দিবসটি উপলক্ষে গণপূর্ত বিভাগের কর্মীরা মাসব্যাপী অক্লান্ত পরিশ্রম করে সৌধ প্রাঙ্গণকে দিয়েছে এক নতুন রূপ। নানা রঙের বাহারী ফুলের চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে স্মৃতিসৌধের সবুজ চত্বর। চত্বরের সিঁড়ি ও নানা স্থাপনায় পড়ছে রঙ-তুলির আঁচড়। নিরাপত্তার জন্য ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, উচ্চ মাত্রার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারীসহ সৌধ এলাকায় থাকবে কয়েকস্তরের নিরাপত্তা বলয়। এ সমস্ত কর্মকা- শেষ করতে মার্চের শুরুতেই জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটকে ৬ মার্চ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত স্মৃতিসৌধের কিছু অংশে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে সীমিত রাখা এবং ১৪ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পুরো স্মৃতিসৌধ সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ থাকার একটি নোটিশ টাঙানো হয়েছিল। ২৬ মার্চ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করার পর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
এবার ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, কূটনৈতিক কোরের ডিন। এর পরপরই জাতির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে যাবতীয় গার্ড অব অনার প্রদানর জন্য একটি সুসজ্জিত দল তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
এছাড়া স্মৃতিসৌধে আগত দর্শনার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে সাভার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত এবং এর আশপাশের এলাকায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিসহ মোতায়েন থাকবে সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য।
এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, ‘স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে মার্চ মাসের শুরুতেই সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে। ফুল দিয়ে সাজানো, লেক সংস্কার, সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ সব কাজ এখন পুরোপুরি শেষ। মহান স্বাধীনতা দিবসে প্রথম পড়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও বিদেশী কূটনীতিকসহ লাখো মানুষ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন ও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ এখন পুরোপুরি প্রস্তুত’। এছাড়াও ইতিমধ্যে সিভিল পোশাকে ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা স্মৃতিসৌধের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখছেন।
ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ‘২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হবে। স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আগমন করবেন। এই আগমন উপলক্ষ্যে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার এর নেতৃত্বে ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এবং যারা স্মৃতিসৌধে আসবেন শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন, তারা যেন নির্বিঘেœ এখানে আসতে পারেন এবং এখান থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন, এজন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে’।
অন্যদিকে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসকে সামনে রেখে বিরোধীদলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমানের আগমন উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আফজাল হোসাইন, ঢাকা জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।