কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : কলারোয়া পৌরসভার রাস্তার কাজে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে । পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড মির্জাপুর গ্রামের পলাশ সিনেমা হল সংলগ্ন বরফ কলের মোড় থেকে আজিজুল মৌরির বাড়ি পর্যন্ত ঢালাই রাস্তার শুরুতেই ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসির অভিযোগে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে । ঠিকাদার পলাশ হোসেনের নামে জোসনা নামক এক নারী থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছে।
কলারোয়া পৌরসভা অফিস সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকায় বিভিন্ন প্যাকেজে রাস্তার কার্পেটিং, ঢালাই রাস্তা ও ড্রেনের তৈরীর কাজ চলছে। এসব কাজের মধ্যে ১নং প্যাকেজে পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড মির্জাপুর গ্রামের পলাশ সিনেমা হল সংলগ্ন বরফ কলের মোড় থেকে আজিজুল মৌরির বাড়ি পর্যন্ত ২০০ মিটার ঢালাই রাস্তা । যার জন্য সরকার ১৩ লাখ ৩১ হাজার ৮৬২ টাকা বরাদ্দ দেয়। এই কাজের দরপত্র আহবান চেয়ে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রদূত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ১ ডিসেম্বর ওই কাজের টেন্ডার হয়। আর কাজটি পায় মেসার্স আনোয়ার ট্রের্ডাসের স্বত্তাধিকারী পলাশ হোসেন। চুক্তি বা ওর্য়াক ওয়াডার হয় ২৮ ডিসেম্বর। চুক্তিতে উল্লেখ আছে রাস্তাটির দৈঘ্য ২০০ মিটার, প্রস্থ ১.৮ মিটার, দুই সাইটে গাথুনি ১০ ইঞ্চি ও উচু ২ ফুট, গাথুনির নীচে ঢালায় ৩ ইঞ্চি, মেইন রাস্তায় ১ ফুট বালু দিয়ে খোয়া ৫ ইঞ্চি ঢালাই হবে।
এলাকাবাসির অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশের গথিুনীর নীচে ১০০ মিটার রাস্তা ১ ইঞ্চি ঢালাই দিয়ে গাঁথা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০ মিটার রাস্তার দুই পাশে কোন ঢালায় না দিয়েই গাথাঁর কাজ শেষ করেছে। দুই পাশের গাথুনী দুই ফুট উচু হয়নি। রাস্তার মাঝখানে ১ ফুট বালু দেওয়া হয়নি। কোন কোন জায়গায় রাস্তার প্রস্থ ১.৮ মিটার করা হয়নি। ছুটির দিনে কাজ করা হয়েছে। এসব নানা অভিযোগ এনে ছুটির দিন(২৮ মার্চ) শনিবার দুপুরে এলাকাবাসি রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে ঠিকাদার পলাশ হোসেন ছুটে আসে। কারা কাজ বন্ধ করেছে বলে হুমকি দিলে এলাকাবাসির সাথে উচ্চ বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে ঠিকাদার পলাশ জোসনা নামে এক নারীকে মারতে উদ্যত হয়। এ ঘটনায় জোসনা কলারোয়া থানায় ঠিকাদার পলাশ হোসেনের নামে একটি সাধারণ ডায়েরী করেছে। যার নং -১১৬৪, তারিখ - ২৮/০৩/২০২৬ ইং।
মেসার্স আনোয়ার ট্রের্ডাসের স্বত্তাধিকারী ঠিকাদার পলাশ হোসেনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখন কথা বলতে পারবো না, পরে হবে। আমার পাশে ইঞ্জিনিয়ার সহিদুল ভাই আছে। এব্যাপারে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ছুটির দিনে কাজ করতে নিষেধ করে এসেছে।
কলারোয়া পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার সহিদুল ইসলাম জানান, উক্ত রাস্তাটি কত তারিখে কখন শুরু করেছে তা আমি জানিনা। ৩০ মার্চ সোমবার আমি রাস্তায় গিয়েছিলাম। যতটুকু কাজ করা হয়েছে তা সিডিউল অনুযায়ী হয়নি। তাকে চিঠি দেওয়া হবে। আমাদেরকে না জানিয়ে কেন কাজ শুরু করা হলো। এসব কাজের বিল পৌরসভা দিবে না। পুনরায় ওই রাস্তার কাজ সিডিউল অনুযায়ী করা হবে। এখন কাজ বন্ধ থাকবে বলেও তিনি জানান।