মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
পর্যটন সৌন্দর্যের অপর একটি নাম মৌলভীবাজার। ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের আগমনে মৌলভীবাজারের পর্যটন স্পটগুলো লোকে লোকারণ্য। এই জেলাটি সবুজ গালিচায় রাঙা চা বাগানের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে মুখর। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য প্রকৃতির সব রকম উপকরণ রয়েছে এখানে।
জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলায় শতাধিক পর্যটন স্পট থাকলেও দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসুদের প্রথম পছন্দ শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা। এই দুই উপজেলাসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে পাঁচতারকা মানের রিসোর্টসহ দেড় শতাধিক রিসোর্ট, ইকো কটেজ, হোটেল ও মোটেল। ঈদ ঘিরে বাকি দিনগুলোতেও ধীরে ধীরে বুকিং বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত শতভাগ রুম বুকড হয়ে যাবে। এ ছাড়া এক সপ্তাহের ছুটিতে জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ীরা জানান, রমযান মাসে প্রায় পর্যটকশূন্য ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। এ সময় এক রকম স্থবির হয়ে পড়ে স্থানীয় পরিবহন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসা। ঈদ উপলক্ষে আশায় বুক বাঁধছেন চাঁদের গাড়ির চালক ও ব্যবসায়ীরা। নতুন করে সাজানো হয়েছে প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র এবং হোটেল-রিসোর্ট। এদিকে পর্যটকদের জন্য জেলার পাঁচতারকা হোটেল-রিসোর্ট ও গেস্টহাউসগুলোতে ঘোষণা করা হয়েছে নানা আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে পর্যটকদের বড় একটি অংশ শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চান। এ কারণে তারা শহরের হোটেলের পরিবর্তে শহরের বাইরে রিসোর্ট ও কটেজে থাকতে বেশি আগ্রহী। এ ছাড়া এসব রিসোর্ট ও কটেজে কক্ষসংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় আগাম বুকিং দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি ছড়া, চা-বাগান ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলনস্থল মৌলভীবাজার। জেলার ৯২টি চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য, বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র, মাধবকু- জলপ্রপাতের গর্জন, অপরূপ মাধবপুর লেকের নয়নাভিরাম দৃশ্য এবং ঐতিহাসিক স্থানসমূহ মিলে এ জেলা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। পাহাড়ি পথ আর ঘন সবুজ অরণ্যের অপরূপ সৌন্দর্য যে কাউকে আকৃষ্ট করে। জেলার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), হাইল হাওর, বাইক্কা বিল, চা জাদুঘর, চা-কন্যার ভাস্কর্য, রমেশ রাম গৌড়ের আবিষ্কৃত সাত রঙের চা, বধ্যভূমি ’৭১, বাংলদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, রাবার বাগান, গোলটিলা, হাজমটিলা, সীতেশ বাবুর বন্যপ্রাণী সেবাকেন্দ্র, খাসিয়া পুঞ্জি, মণিপুরী সম্প্রদায়ের তাঁতশিল্প, গারোপল্লী, ত্রিপুরাপাড়া, ভাড়াউড়া লেক, কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, ধলই চা বাগানে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, পদ্মছড়া লেক, আদমপুর সংরক্ষিত বন, শমসেরনগর বিমানবন্দর, ক্যামেলিয়া লেক, মণিপুরি ললিতকলা একাডেমি সহ প্রায় অর্ধশতাধিক মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট প্রভৃতি। শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ জানান, শ্রীমঙ্গল এবং কমলগঞ্জ এই দুই উপজেলায় প্রায় দুশো প্লাস হোটেল, গেস্ট হাউজ, রিসোর্ট রয়েছে। এগুলোতে সাধারণত ঈদের দিন পর্যটক খুব বেশি আসেন না, তবে ঈদের এক দিন পর থেকেই পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করে। এবার মোটামুটি ভালো পর্যটক সমাগমের আশা করা যাচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ওসি মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। বিভিন্ন পর্যটন স্পটে আমাদের টহলব্যবস্থা সার্বক্ষণিকভাবে চালু থাকবে।